আর জি কর লিফট দুর্ঘটনা, ৭২ দিনের মাথায় ২০০ পাতার চার্জশিট পেশ লালবাজারের

আর জি কর লিফট দুর্ঘটনা, ৭২ দিনের মাথায় ২০০ পাতার চার্জশিট পেশ লালবাজারের

আর জি কর হাসপাতালের মর্মান্তিক লিফট দুর্ঘটনার ৭২ দিনের মাথায় আদালতে চার্জশিট পেশ করল লালবাজার। সোমবার পেশ করা এই ২০০ পাতার চার্জশিটে ঘটনার হাড়হিম করা বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। গাফিলতির অভিযোগে মোট ৫ জনের নাম রয়েছে এই চার্জশিটে, যার মধ্যে লিফটম্যানদের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটি প্রকাশ পেয়েছিল।

মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনা ও তদন্তের তথ্য

দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে আর জি কর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। হাসপাতালের লিফটে ওঠার পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেটি মাঝপথে আটকে যায়। দীর্ঘক্ষণ লিফটের ভেতরে আটকে থাকার পর এক ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। লিফটের গর্তে পড়ে যান অরূপবাবুর স্ত্রী ও ছেলে। অন্যদিকে, লিফটের দরজা ও দেওয়ালের মাঝে পড়ে শরীরের ঘর্ষণে ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

লালবাজারের চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় যাঁরা লিফট ও নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা চরম মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। মদ্যপ থাকার কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে ঠিক কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা তাঁরা অনুধাবন করতে পারেননি। কর্তব্যরত কর্মীদের এই অসংবেদনশীলতা এবং কর্তৃপক্ষের পরিকাঠামোগত গাফিলতির কারণেই এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ঘটনার কারণ ও দূরপ্রসারী প্রভাব

তদন্তকারীদের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং জরুরি উদ্ধারকারী দলের অনুপস্থিতিই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। তার ওপর মদ্যপ অবস্থায় ডিউটি করার মতো চরম অপেশাদারিত্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল।

এই ঘটনার প্রভাব সরকারি হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। ঘটনার পর মৃতের পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হলে বিষয়টি নিয়ে রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। লালবাজারের এই দ্রুত চার্জশিট পেশের ফলে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জননিরাপত্তা ও কর্মীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাধ্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *