বিমানের ককপিটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, AI কি মানুষের পাইলটের জায়গা নিতে পারবে?

ভবিষ্যতের আকাশে চালকের আসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা! বিমান পরিবহনে আসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই এখন আর কেবল মোবাইল ফোন কিংবা চ্যাটবটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কল্পবিজ্ঞানের সিনেমার দৃশ্যকে বাস্তবে রূপ দিয়ে এবার বিমান চালানোর দায়িত্বে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। সম্প্রতি মার্কিন স্টার্টআপ মার্লিন ল্যাবস তাদের ‘মার্লিন পাইলট’ নামক এআই সিস্টেমের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। একটি সেসনা ক্যারাভান বিমানে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নেভিগেশন, দিক পরিবর্তন, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে যোগাযোগ এবং ল্যান্ডিংয়ের মতো জটিল কাজগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিয়ন্ত্রণে সম্পন্ন করা হয়েছে। যদিও পরীক্ষাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে এর সাফল্য বিমান শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মানবীয় ভুল কমাতে এআই-এর ভূমিকা
বিমান দুর্ঘটনার একটি বড় অংশের কারণ হিসেবে মানবিক ভুল বা মানুষের তৈরি সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করা হয়। এআই প্রযুক্তির প্রবক্তারা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি পাইলটদের জন্য একটি শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। আধুনিক বিমানে বিদ্যমান অটোমেশনের চেয়ে এআই সিস্টেম অনেক বেশি উন্নত, যা প্রতিকূল ও দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে অনেক বেশি কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। এটি যাত্রাপথের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় ও চ্যালেঞ্জ
পুরো বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক দিক থাকলেও নিরাপত্তার প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। নর্থ আমেরিকার পাইলট সংস্থা ‘এয়ার লাইন পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন’-এর মতে, এআই-কে কোনোভাবেই একজন অভিজ্ঞ পাইলটের পূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের বিচারবুদ্ধি ও অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন তারা। এ ছাড়া কোনো এআই প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমানে ব্যবহারের আগে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা পরীক্ষা ও যাত্রীদের আস্থা অর্জন করাটাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। এআই প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বর্তমান সময়ে ঝুঁকির কারণ হতে পারে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। তবুও প্রযুক্তির এই অভাবনীয় অগ্রগতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অদূর ভবিষ্যতে আকাশপথে ভ্রমণের ধারণাটি পুরোপুরি বদলে যেতে পারে।