রোজকার পচা আবর্জনা নয়, এটি ‘কালো সোনা’! কীভাবে এটি বদলে দেবে দেশের অর্থনীতি?

শহরের ‘ভেজা বর্জ্য’ হতে পারে ভারতের অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি, কর্মসংস্থান হবে ২৬ লক্ষ মানুষের
ভারতের ক্রমবর্ধমান শহরগুলোতে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ ভেজা বর্জ্য বা জৈব বর্জ্য উৎপাদিত হয়, তা আগামীদিনে দেশটির অর্থনীতির জন্য এক বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। ‘কাউন্সিল অন এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটার’ (CEEW)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৪৭ সাল নাগাদ ভারতের শহুরে জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকার একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, এই খাতটি সরাসরি ২৬ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
জৈব বর্জ্য বা ‘কালো সোনা’র গুরুত্ব
রান্নাঘরের ফেলে দেওয়া শাকসবজির খোসা, চায়ের পাতা বা বেঁচে যাওয়া খাবার—যা আমরা সাধারণত বর্জ্য হিসেবে গণ্য করি, তাকেই ‘কালো সোনা’ বা জৈব সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বর্জ্যকে সঠিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করে কম্পোস্ট সার, বায়োগ্যাস, বায়ো-সিএনজি ও অন্যান্য জৈব পণ্য তৈরি করা সম্ভব, যা ভারতের জ্বালানি ও কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
পরিসংখ্যান যা বলছে
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী:
- ভারতের শহরগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ ৭১ হাজার টন পৌরবর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার প্রায় অর্ধেকই হলো ভেজা বা জৈব বর্জ্য।
- ২০৪৭ সাল নাগাদ শুধুমাত্র শহুরে পৌরবর্জ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ২০ কোটি টনে পৌঁছাতে পারে।
- বর্তমানে মোট পৌরবর্জ্যের প্রায় ৬১ শতাংশ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের দিগন্ত
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেবল পরিবেশ দূষণই কমাবে না, এটি একটি বিশাল শিল্পখাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। বর্জ্য সংগ্রহ, বাছাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্ট পরিচালনা এবং প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণের কাজে বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। এই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ২৬ লক্ষ প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হওয়া সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যদি জৈব বর্জ্যকে সমস্যা হিসেবে না দেখে একটি সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে এবং এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ায়, তবে তা একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব বা স্বচ্ছ জ্বালানির লক্ষ্যপূরণ করবে, অন্যদিকে ভারতের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করে তুলবে।