নিরাপত্তা সরতেই ঘরবন্দি অনুব্রত, শুনশান বোলপুরের তৃণমূল কার্যালয়

বীরভূম বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না হওয়া সত্ত্বেও নিয়ম করে দলীয় কার্যালয়ে আসছিলেন তৃণমূলের জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু পুলিশি নিরাপত্তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই তিনি কার্যত গৃহবন্দি। বোলপুরের চণ্ডিদাস রোডের নিচুপট্টি এলাকার জেলা দলীয় কার্যালয় এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা। অনুব্রতের পাশাপাশি কোর কমিটির অন্য কোনো সদস্য বা সাধারণ কর্মীদেরও আর সেখানে দেখা মিলছে না।
সুরক্ষা কবচ হারাতেই দূরত্ব
অনুব্রত মণ্ডলের জন্য আগে ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বরাদ্দ ছিল, যেখানে পাইলট গাড়িসহ ১০ জন দেহরক্ষী এবং বাড়িতে চারজন পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকতেন। কয়েক দিন আগে সেই নিরাপত্তা কমিয়ে মাত্র দুজন দেহরক্ষী ও একজন গৃহরক্ষী করা হয়। সম্প্রতি সেই অবশিষ্ট নিরাপত্তাটুকুও পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই আকস্মিক নিরাপত্তা প্রত্যাহারের কারণেই অনুব্রত মণ্ডল নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন এবং দলীয় কার্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে তিনি নিজে সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করেননি।
ভরাডুবির প্রভাব ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি
এবার বীরভূমের নির্বাচনী রণকৌশল নির্ধারিত হয়েছিল অনুব্রত মণ্ডল ও জেলা কোর কমিটির হাত ধরেই। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, জেলার ১১টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৬টিতেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। বিশেষ করে বোলপুর শহরে শাসকদল পিছিয়ে পড়ায় কর্মীদের মধ্যে তীব্র হতাশা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের দিন সকাল পর্যন্ত কার্যালয়ে ভিড় থাকলেও, ফলাফল স্পষ্ট হতেই তা কমতে শুরু করে। একদিকে ভোটের বিপর্যয় এবং অন্যদিকে দলের শীর্ষ নেতার এই অন্তর্ধান বীরভূমের তৃণমূল শিবিরে বড়সড় স্থবিরতা ডেকে এনেছে, যা আগামী দিনে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।