সিবিএসই পুনর্মূল্যায়ন পোর্টাল চালুর পরই চরম ভোগান্তিতে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী!

চার দিনের দীর্ঘ বিলম্ব এবং দফায় দফায় সংশোধিত সময়সূচির পর অবশেষে আজ, ২ জুন চালু হয়েছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) দ্বাদশ শ্রেণীর পুনর্মূল্যায়ন পোর্টাল। তবে পোর্টালটি লাইভ হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে কয়েক লক্ষ শিক্ষার্থী নতুন করে লগইন সমস্যায় পড়েছেন। উত্তরপত্র যাচাই ও আসন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের এই প্রযুক্তিগত বিভ্রাট চরম উদ্বেগের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বোর্ডের পক্ষ থেকে পোর্টাল চালুর ঘোষণা আসার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করতে শুরু করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। অনেকেরই অভিযোগ, সঠিক লগইন তথ্য এবং ক্যাপচা পূরণের পরও স্ক্রিন পুরোপুরি ‘ফ্রিজ’ বা স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্ক্রিনে ভেসে উঠছে ‘ভেরিফিকেশন ফেইলড’ বা ‘লগইন অনুরোধের মেয়াদ উত্তীর্ণ’ হওয়ার মতো বার্তা।
ভোগান্তির নেপথ্যে অতিরিক্ত ট্র্যাফিক ও কারিগরি ত্রুটি
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে নম্বর যাচাই, উত্তরপত্রের ফটোকপি সংগ্রহ এবং পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪,০৪,৩১৯ জনেরও বেশি। একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী পোর্টালে প্রবেশের চেষ্টা করায় অতিরিক্ত ট্র্যাফিকের কারণে এই সার্ভার বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। এর আগে গত মে মাসেও একই কারণে পোর্টালটি সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়েছিল। এছাড়া, বোর্ডের তথ্য আপলোডে অভ্যন্তরীণ কোনো অসঙ্গতি বা কারিগরি ত্রুটিও এই লগইন সমস্যার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের তীর কেবল পোর্টালের দিকেই নয়, মূল্যায়নের গুণগত মান নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অভিষেক সিং নামের এক ছাত্রের অভিযোগ, তাঁর ওএমআর শীটের সঠিক এমসিকিউ (MCQ) উত্তরকে ভুল দেখানো হয়েছে এবং কিছু প্রশ্নের মূল্যায়নই করা হয়নি। এর পাশাপাশি পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যর্থতা, অতিরিক্ত ফি কেটে নেওয়া, সফল পেমেন্টের পর রসিদ না পাওয়া এবং ঝাপসা বা আসাম্পূর্ণ উত্তরপত্রের কপি পাওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনেছেন অভিভাবকরা।
ভর্তি প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাবের আশঙ্কা
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অনুমান অনুযায়ী, যারা নিজেদের মূল্যায়নকৃত উত্তরপত্র দেখেছেন, তাদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী নম্বর যাচাই বা পুনর্মূল্যায়ন চাইতে পারেন। সেই হিসাবে এই সংখ্যাটি প্রায় ৬০,০০০ থেকে ৮০,০০০ আবেদনের সমান, যা সিবিএসই বোর্ডের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম পর্যালোচনা হতে চলেছে।
বোর্ড প্রথমে ২৯ মে, এরপর ১ জুন এবং সবশেষে ২ জুন পোর্টাল চালুর দিন ধার্য করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। এই লাগাতার বিলম্ব ও বর্তমান লগইন জটিলতার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ইতিমধ্যেই স্নাতক স্তরের ভর্তি এবং কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ত্রুটি সংশোধন করে পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে অনেক যোগ্য শিক্ষার্থীই তাঁদের পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সময়মতো আবেদন করা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। সিবিএসই কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানো বা এই কারিগরি ত্রুটি নিয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।