তৃণমূলে কি বড়সড় ভাঙন, এমএলএ হস্টেলে ঋতব্রত ও সন্দীপনের সঙ্গে জাভেদ-শিউলিদের গোপন বৈঠক ঘিরে জল্পনা

তৃণমূলে কি বড়সড় ভাঙন, এমএলএ হস্টেলে ঋতব্রত ও সন্দীপনের সঙ্গে জাভেদ-শিউলিদের গোপন বৈঠক ঘিরে জল্পনা

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ক্ষোভ ও অস্বস্তি এবার প্রকাশ্য রূপ নিতে শুরু করেছে। দল বিরোধী কাজের অভিযোগে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করার পর দলের অন্দরে ফাটল আরও চওড়া হয়েছে। এবার সেই জল্পনা উসকে দিয়ে কলকাতার এমএলএ হস্টেলে বহিষ্কৃত এই দুই নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসলেন তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়ক জাভেদ খান এবং শিউলি সাহা। মালদহ ও মুর্শিদাবাদের বিধায়কদের নিয়ে মোট ১৫-১৬ জন এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্রের খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক শিবিরের অন্দরে বড়সড় বিদ্রোহের ইঙ্গিত দেখছে রাজনৈতিক মহল।

তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের নেপথ্য কারণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের সিদ্ধান্ত এবং দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে বিধায়কদের একটি বড় অংশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কারের পর সেই অসন্তোষ আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়েছে। এমএলএ হস্টেল থেকে বেরনোর সময় শিউলি সাহার মন্তব্য এই জল্পনাকে আরও তীব্র করেছে। তিনি বলেন, “ওঁরা বিধায়ক পদ থেকে বহিষ্কৃত নন, দল থেকে বহিষ্কৃত।” হস্টেলে নিজের ঘর দেখতে এসে চা খাওয়ার অছিলায় এই বৈঠক হলেও, এর রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। অন্যদিকে, বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পুরসভার দুর্নীতি নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, টেন্ডার ছাড়া ১০ হাজার ঘর চুরির মতো ঘটনা ঘটেছে এবং ইতিপূর্বে প্রাণের ভয়ে তিনি মুখ খুলতে পারেননি।

আগামী দিনে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

এই বৈঠকের প্রভাব রাজ্যের শাসক দলের ওপর সুদূরপ্রসারী হতে পারে। রাজনৈতিক মহলের অন্দরের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রায় ৫০ জন তৃণমূল বিধায়ক আগামী কাল, মঙ্গলবারই বিধানসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দিতে পারেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেতা নির্বাচিত করে ‘প্রকৃত তৃণমূল’ দাবি করে এই চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এর আগে সুপ্রিমোর ডাকা বৈঠকেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক অনুপস্থিত থাকায় বৈঠক ভেস্তে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে যদি সত্যিই ৫০ জন বিধায়ক দল থেকে দূরত্ব বজায় রাখেন, তবে তা তৃণমূলের আইনসভা দলের অস্তিত্ব এবং সামগ্রিক সাংগঠনিক ঐক্যের ক্ষেত্রে বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *