ইতিহাসে প্রথমবার বিজেপিতে নতুন পদের চমক, দিল্লির হাইভোল্টেজ সাংগঠনিক রদবদলে বড় দায়িত্বে নাগেন্দ্র নাথ

দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক রদবদলের মাঝে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল দলীয় নেতৃত্ব। বিজেপির ইতিহাসে এই প্রথমবার তৈরি করা হলো ‘রাষ্ট্রীয় সংগঠক (বিশিষ্ট কর্মী সংযোগ)’ নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন পদ। সোমবারই বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন প্রবীণ নেতা নাগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠীকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দিয়েছেন। জানা গেছে, অল ইন্ডিয়া স্তরের এই নতুন পদের সদর দফতর হবে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে।
পুরনো কর্মীদের ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা
বিজেপির এই সাংগঠনিক পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে এক সুদূরপ্রসারী কৌশল। দলীয় সূত্রে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, দেশজুড়ে দ্রুত বিস্তার ও ক্রমবর্ধমান সাংগঠনিক কাঠামোর কারণে বহু প্রবীণ, অভিজ্ঞ কর্মী এবং প্রাক্তন পদাধিকারীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠছিল। এই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যেই বিশেষ পদটি তৈরি করা হয়েছে। নাগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠীর মূল কাজ হবে দলের পুরনো ও দীর্ঘদিনের সংগঠকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা এবং তাঁদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ প্রশমন করে অভিজ্ঞতাকে দলের কাজে লাগানো। প্রবীণ কর্মীদের মতামত সংগ্রহ ও সাংগঠনিক পরামর্শ শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবেন তিনি।
নেপথ্যের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন ও সামগ্রিক সাংগঠনিক পুনর্গঠনের আগে ত্রিপাঠীর এই নিয়োগ বিজেপির এক বড় কৌশলগত চাল। একদিকে দলের নতুন নেতৃত্বের উত্থান, অন্যদিকে প্রবীণদের গুরুত্ব হ্রাস পাওয়ার ক্ষোভ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন বিজেপির প্রধান চ্যালেঞ্জ। প্রবীণ কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়ে দলের ভেতরের কোন্দল থামানো এবং তাঁদের সক্রিয় রাখাটাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।
নতুন দায়িত্ব পাওয়া নাগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠী দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়ালে সংগঠন শক্তিশালী করার জন্য পরিচিত। উত্তরপ্রদেশের সন্ত কবীর নগরের এক কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া ত্রিপাঠী ছাত্রজীবন থেকেই আরএসএস ও এবিভিপির সঙ্গে যুক্ত। আরএসএসের প্রচারক হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই নেতা ইতিপূর্বে প্রায় আট বছর উত্তরপ্রদেশে এবং পরবর্তীতে বিহার-ঝাড়খণ্ড অঞ্চলের আঞ্চলিক সংগঠন মহাসচিব হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব সামলেছেন। পুরনো কর্মীদের মাঠে নামানো এবং নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণে তাঁর এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েই আসন্ন নির্বাচনে ফায়দা তুলতে চাইছে পদ্ম শিবির।