মাত্র ৫ হাজারেই চির ঠান্ডার দেশে, কার্শিয়াংয়ের এই অফবিট বেলতার গ্রামই এখন সেরা গন্তব্য

সমতলের তীব্র দাবদাহ, আর্দ্রতা আর শহরের কোলাহল থেকে বাঁচতে পাহাড়প্রেমী পর্যটকরা সবসময়ই একটু ঠান্ডা ও শান্ত পরিবেশের খোঁজ করেন। উত্তরবঙ্গের চেনা পর্যটন কেন্দ্রগুলোর উপচে পড়া ভিড় এড়িয়ে যারা একদম নিরিবিলি কোনো জায়গায় দু-একদিন কাটাতে চান, তাদের জন্য দার্জিলিং পাহাড়ের কোলে এক নতুন স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে কার্শিয়াং মহকুমার বেলতার গ্রাম। কার্শিয়াংয়ের মূল শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ছোট্ট পাহাড়ি জনপদটি এখনও তার আদিম ও শান্ত রূপ ধরে রেখেছে। চারপাশের সবুজ চা-বাগান এবং মেঘ-রোদ্দুরের লুকোচুরি খেলা এই গ্রামটিকে উইকেন্ডের ছুটির জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
ছবির মতো সুন্দর এই বেলতার গ্রামে পৌঁছানো বেশ সহজ। পর্যটকরা নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশন বা বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে শিলিগুড়ি হয়ে প্রথমে কার্শিয়াং শহরে পৌঁছাতে পারেন। সেখান থেকে লোকাল ট্যাক্সি বা ছোট গাড়িতে চড়ে সহজেই বিখ্যাত মার্গারেট হোপ মোড় পার হয়ে পাহাড়ি ঢালু পথ বেয়ে এই রূপকথার গ্রামে পৌঁছানো যায়। পাইন আর ধূপি গাছের ছায়া, পাখির কূজন এবং পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে সবুজ কার্পেটের মতো বিছানো চা-বাগান বেলতারের মূল সৌন্দর্য।
পাহাড়ি আতিথেয়তার নতুন ঠিকানা
বর্তমানে বেলতারে পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু মনোরম ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত হোমস্টে গড়ে উঠেছে। স্থানীয় সংস্কৃতির আমেজ এবং পাহাড়ি আতিথেয়তার পাশাপাশি এসব হোমস্টে থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা ও প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া মূল কার্শিয়াং শহরে থেকেও দিনে দিনে এই অফবিট ডেস্টিনেশন ঘুরে দেখার সুবিধা রয়েছে।
অফবিট পর্যটনে সাশ্রয়ী বিপ্লব
বেলতারের জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এর অবিশ্বাস্য কম খরচ। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য চেনা জায়গার তুলনায় এখানে থাকা এবং খাওয়ার খরচ সাধারণ মানুষের বাজেটের মধ্যেই রয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং শেয়ার গাড়ির সুবিধার কারণে যাতায়াত খরচ অনেকটাই কমে এসেছে। হোমস্টেগুলোতে থাকা এবং তিন বেলার খাবারসহ প্রতিদিনের খরচ মাথাপিছু ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে দুই রাত ও তিন দিনের একটি সম্পূর্ণ পাহাড়ি ভ্রমণের জন্য জনপ্রতি মাত্র ৩৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা খরচ করলেই চলে, যা মধ্যবিত্ত পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক।
বেলতারের মতো অফবিট জায়গাগুলোর দ্রুত প্রচারের ফলে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে এক নতুন জোয়ার এসেছে। সমতলের চরম আবহাওয়ার কারণে মানুষ এখন প্রাকৃতিক এসি-র খোঁজে পাহাড়ের দিকে ছুটছেন। কম খরচে নির্জন পরিবেশ পাওয়ার এই সুযোগ একদিকে যেমন সাধারণ পর্যটকদের ভ্রমণকে সহজ করছে, অন্যদিকে স্থানীয় পাহাড়ি গ্রামবাসীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখছে।