রাজভবনে অনন্য মেলবন্ধন, ৬ ভাষায় শপথ নিলেন ৩৫ জন মন্ত্রী!

রাজভবনে অনন্য মেলবন্ধন, ৬ ভাষায় শপথ নিলেন ৩৫ জন মন্ত্রী!

সোমবার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করল বাংলার নতুন মন্ত্রিসভা। লোকভবনে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে মোট ৩৫ জন মন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আর. এন. রবি। তবে এবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল এর অভূতপূর্ব ভাষাগত বৈচিত্র্য। বাঙালির আবেগকে মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সংস্কৃতি ও জনজাতিকে গুরুত্ব দিয়ে মোট ছয়টি আলাদা ভাষায় শপথ নিয়েছেন নতুন মন্ত্রীরা।

শপথগ্রহণে ভাষার কোলাজ

এদিনের অনুষ্ঠানে বাংলা ছাড়াও হিন্দি, ইংরেজি, সাঁওতালি, রাজবংশি ও নেপালি ভাষায় শপথ নিতে দেখা যায় মন্ত্রীদের। উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্রদের সংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়ে রাজবংশি ভাষায় শপথ নেন আনন্দময় বর্মণ এবং পাহাড়ের প্রতিনিধি হিসেবে নেপালি ভাষায় শপথ নেন বিশাল লামা। আদিবাসী আবেগকে ছুঁয়ে সাঁওতালি ভাষায় শপথ নেন দুই প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু এবং অমিয় কিস্কু। এছাড়া ক্যাবিনেট মন্ত্রী অজয় কুমার পোদ্দার ও প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই হিন্দিতে এবং স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী রাজেশ মাহাত ইংরেজিতে শপথবাক্য পাঠ করেন।

রাজনৈতিক ভারসাম্য ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন মন্ত্রিসভার এই রূপরেখার পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী কৌশল। লোকসভা নির্বাচনের পর উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলের বিভিন্ন জাতি ও ভাষাভিত্তিক গোষ্ঠীর মন জয় করতেই এই ভাষাগত বৈচিত্র্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রান্তিক জনজাতির প্রতিনিধিদের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দেওয়ার মূল কারণ হলো, রাজ্যজুড়ে সবকটি অঞ্চলের মানুষের মধ্যে অন্তর্ভুক্তি ও উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ভারসাম্যমূলক মন্ত্রিসভা গঠনের ফলে আগামী দিনে পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল—সর্বত্র সরকারি নীতি নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের কাজ অনেক সহজ হবে। আঞ্চলিক স্তরের ক্ষোভ প্রশমন করে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই এখন এই নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *