গল্ফগ্রিন রহস্যমৃত্যু, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য, মৃত্যুর সময়ে বড়সড় ফারাক!

দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত এলাকা গল্ফগ্রিনের এক ফ্ল্যাট থেকে যুগলের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। মৃত তরুণ ও তরুণীর প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসতেই বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার সকালেই লালবাজারের হোমিসাইড শাখা ও বিশেষ ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করেছে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চাঞ্চল্য
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণ ও তরুণী, দু’জনের পাকস্থলীতেই মদের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। তবে মৃত্যুর ঠিক আগে তাঁরা অতিরিক্ত মাত্রায় কোনও মারাত্মক মাদক সেবন করেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করতে ভিসেরা ও অন্যান্য নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সবচেয়ে রহস্যময় যে তথ্যটি উঠে এসেছে, তা হলো দুই জনের মৃত্যু একই সময়ে হয়নি। চিকিৎসকদের মতে, তরুণীর মৃত্যু হয়েছে তরুণের আনুমানিক প্রায় ৩৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে। একই ফ্ল্যাটে এক জনের মরদেহের পাশে অন্য জন কীভাবে এতক্ষণ কাটালেন এবং পরবর্তীতে তাঁরও কীভাবে মৃত্যু হলো, তা গোয়েন্দাদের ভাবিয়ে তুলছে।
হাউসপার্টির আড়ালে অন্ধকার দুনিয়া
তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ওই ফ্ল্যাটটিতে প্রায়শই অবাধ ‘হাউসপার্টি’ বা ঘরোয়া মদ্যপানের আসর বসত, যেখানে দামি মদ ও বিভিন্ন নেশার সামগ্রী মজুত থাকত। ঘটনার দিন ওই ফ্ল্যাটে মোট পাঁচ জন উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হরিদেবপুরের মুস্তাক আলি মোল্লা ওরফে রোহিত, চন্দন পাসওয়ান এবং ঝাড়খণ্ডের অঞ্জলি বঙ্গীরা নামে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আলিপুর আদালত ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত তরুণী তিলজলার বাসিন্দা ওই তরুণের সঙ্গে লিভ-ইন করতেন। সমাজমাধ্যমে ‘রিল’ বানিয়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন তাঁরা। ধৃত রোহিতও রিল তৈরি করতেন। বেকার এই যুবকেরা কীভাবে এই বিলাসবহুল লাইফস্টাইল বজায় রাখতেন এবং এত টাকা কোথা থেকে পেতেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই রিল সংস্কৃতির আড়ালে অন্য কোনও অন্ধকার অপরাধের দুনিয়া বা মাদক চক্র লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।