চলতি সপ্তাহেই দেশে ঢুকছে মৌসুমী বায়ু, বাংলায় ব্যাপক বৃষ্টির পূর্বাভাস

তীব্র দাবদাহের পর অবশেষে স্বস্তির খবর দিল আবহাওয়া দফতর। চলতি সপ্তাহেই দেশে সরকারিভাবে প্রবেশ করছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪ জুন বৃহস্পতিবার কেরলে বর্ষা আছড়ে পড়বে। এর হাত ধরেই দেশজুড়ে শুরু হবে বহু প্রতীক্ষিত বর্ষার মরশুম। এই মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তার কারণে আগামী দিনগুলিতে দক্ষিণ ভারতের পাশাপাশি পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দক্ষিণ ভারতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমী বায়ুর আগমনের জেরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে বিশেষ করে তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকে সবথেকে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলায় বর্ষার আগমন ও সম্ভাব্য প্রভাব
দক্ষিণ ভারতের পর পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও দ্রুত বর্ষা প্রবেশ করবে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের ইঙ্গিত, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডে বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গে প্রথা অনুযায়ী এবারও প্রথম বৃষ্টি শুরু হবে দার্জিলিং ও উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায়, যা পরবর্তীতে দক্ষিণবঙ্গে ছড়িয়ে পড়বে। বর্ষা প্রবেশের মুখে রাজ্যগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া এবং মাঝারি থেকে তীব্র বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কৃষি ও অর্থনীতিতে স্বস্তি
ভারতে মৌসুমী বায়ুর আগমন দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রায় অর্ধেক কৃষিজমি সেচের জন্য সরাসরি এই বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে দেশের জলাধারগুলি পূর্ণ হবে, যা জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ভূমিকা পালন করবে। একইসঙ্গে গত কয়েক সপ্তাহের তীব্র গরম ও প্রাক-বর্ষার অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে স্থায়ী মুক্তি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।