বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে রবীনা ট্যান্ডনের বাড়িতে বিপুল চুরি, অবশেষে গ্রেপ্তার পরিচারিকা

বলিউড অভিনেত্রী রবীনা ট্যান্ডনের পরিবারে এক চরম দুঃসংবাদ নেমে এসেছে। টলিউডের পর এবার বলিউডেও থাবা বসিয়েছে ঘরের পরিচারিকার বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনা। দীর্ঘদিনের পুরোনো ও বিশ্বস্ত পরিচারিকার হাতের কারসাজিতে রবীনার মা ও ভাইয়ের লকার থেকে খোয়া গেছে লক্ষ লক্ষ টাকার সোনা-হিরের গয়না এবং দামী ঘড়ি। এই ঘটনায় মুম্বইয়ের জুহু থানায় অভিযোগ দায়েরের পর অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত পরিচারিকাকে।
বিশ্বাসের আড়ালে দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্র
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মহিলার নাম রাশি ছাবারিয়া, যার বয়স আনুমানিক ৪৭ বছর। ২০২০ সাল থেকে তিনি রবীনা ট্যান্ডনের বর্ষীয়ান মা বীনা ট্যান্ডনের দেখাশোনার দায়িত্বে নিযুক্ত ছিলেন। একটানা কয়েক বছর এই বাড়িতে থাকার সুবাদে তিনি রবীনার পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সদস্য হয়ে ওঠেন। ফলে বাড়ির তিনতলার সিন্দুকে যেখানে পরিবারের সদস্য ছাড়া আর কারও যাওয়ার অনুমতি ছিল না, সেখানেও তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল। কিন্তু এই অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই ভেতরে ভেতরে বড় চুরির ছক কষছিলেন রাশি। ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে, যখন রবীনার মা লকারটি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। সিন্দুক থেকে সোনার চুড়ি, নেকলেস, হিরের গয়না এবং নগদ পঁচিশ লক্ষ টাকা গায়েব হয়ে যায়। শুধু গয়নাই নয়, রবীনার ভাই তথা প্রযোজক রাজীব ট্যান্ডনের দামী ঘড়িতেও নজর পড়েছিল তাঁর।
আইনি পদক্ষেপ ও চুরির প্রভাব
এই ঘটনার পর রাজীব ট্যান্ডন জুহু থানায় এফআইআর দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্তের পর চলতি বছরের ২১ মে রাশি ছাবরিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালত তাঁকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযুক্ত প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে চুরির দায় স্বীকার করে নেয়। রবীনার ভাইয়ের বহুমূল্যের দুটি ঘড়ি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, সোনা ও হিরের গয়নাগুলো এখনও উদ্ধার করা যায়নি। রাশি পুলিশকে জানিয়েছে যে, সে গয়নাগুলি ‘জগদীশ’ নামের এক সহযোগীর কাছে জমা রেখেছে।
এই ঘটনার ফলে তারকা পরিবারটি মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘরের চুরির পেছনে কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ এখন রাশির সহযোগী জগদীশের সন্ধান চালাচ্ছে। বিনোদন জগতের তারকাদের বাড়িতে গৃহকর্মীদের এই ধরণের অপরাধমূলক আচরণ এবং নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা চারপাশের সার্বিক সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।