ডিএ জট কাটার মাঝেই নবান্নে বড় বার্তা, ডিসেম্বরের মধ্যে মিলবে ৫০ হাজার চাকরি!

রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের দীর্ঘদিনের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ আন্দোলনের জট কাটার আবহেই নবান্নে এক তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন হলো। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিদের প্রায় দেড় ঘণ্টার এই বৈঠক কর্মচারী মহলে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক টানাপড়েন সরিয়ে রেখে মহার্ঘ ভাতা, নতুন নিয়োগ, কর্মসংস্কৃতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মতো একাধিক বিষয়ে এই বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ডিসেম্বরেই মেগা নিয়োগের আশ্বাস ও ডিএ সমাধান
বৈঠক শেষে যৌথ মঞ্চের অন্যতম শীর্ষ নেতা ভাস্কর ঘোষ জানান, রাজ্যের বর্তমান কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বিস্তারিত কথা হয়েছে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন যে, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে রাজ্যে অন্তত ৫০ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থী এবং কর্মচারী সংগঠনগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত বড় একটি বার্তা।
পাশাপাশি, ডিএ সংক্রান্ত আইনি লড়াই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে যে নির্দেশ দেবে, সরকার তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলবে। পূর্বতন সরকারের মতো আইনি জটিলতা তৈরি না করে বকেয়া ডিএ বা এরিয়ার পরিশোধের বিষয়েও আলোচনার দরজা খোলা রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, সরকার ইতিমধ্যেই ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও বাজেটে বড় চমকের ইঙ্গিত
প্রশাসনিক স্তরে কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা এবং কাটমানি ও ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতির অবসান ঘটানোর দাবিও এদিনের বৈঠকে জোরালোভাবে তুলে ধরেন কর্মচারী প্রতিনিধিরা। মুখ্যমন্ত্রী এই অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এদিনের বৈঠকের সবচেয়ে বড় চমক ছিল আগামী ২২ জুন পেশ হতে চলা রাজ্য বাজেট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া ইঙ্গিত। যৌথ মঞ্চের দাবি, আগামী বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা সংক্রান্ত একাধিক বড় ঘোষণা থাকতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে ডিএ এবং নতুন নিয়োগের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসা সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের এই শীর্ষ বৈঠককে একটি ইতিবাচক সূচনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা। সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে চলা এবং বকেয়া মেটানোর সদিচ্ছা সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ অনেকটাই প্রশমিত করতে পারে। একই সঙ্গে, ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার নিয়োগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে তা রাজ্যের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখন সবার নজর আগামী ২২ জুনের রাজ্য বাজেটের দিকে।