রাত জাগা ফুটবল নাকি সন্ধ্যার ক্রিকেট, কোন মোহে ভাসবে ভারতের ক্রীড়াবিশ্ব!

ভারতের ক্রীড়াপ্রেমীরা আগামী ১২ জুন থেকে এক বিরল এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে চলেছেন। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই সময়ে বিশ্ব ক্রীড়ামঞ্চের দুই বৃহৎ আসর—ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ এবং আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে। গত বছর পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের রাজকীয় সাফল্যের পর দেশের সমর্থকদের মাঝে ক্রিকেটের টান যেমন তুঙ্গে, তেমনি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার দ্বৈরথ কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ জাদু দেখার উন্মাদনাও কম নয়। এই দ্বিমুখী আকর্ষণে ভারতীয় ক্রীড়ামোদীদের মন আসলে কোন দিকে বেশি মজবে, তা নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিশ্লেষণ।
সময়ের হিসাব ও সম্প্রচারের জটিলতা
ক্রীড়াসূচি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই দুই মেগা টুর্নামেন্টের মাঝে সরাসরি সময়ের কোনো সংঘাত বা ওভারল্যাপ হবে না। তবে ভারতীয় দর্শকদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে দৈনিক রুটিন ও ঘুমের সময় ধরে রাখা। উত্তর আমেরিকায় আয়োজিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উপভোগ করতে ভারতীয় দর্শকদের চরম রাত জাগতে হবে। উদ্বোধনী ম্যাচসহ গ্রুপ ও নক-আউট পর্বের খেলাগুলো ভারতীয় সময় অনুযায়ী রাত ১২টা ৩০ মিনিট, ১টা ৩০ মিনিট, ভোর ৩টা ৩০ মিনিট, ৪টা ৩০ মিনিট এবং সকাল ৬টা ৩০ ও ৭টা ৩০ মিনিটে সম্প্রচারিত হবে। উপরন্তু, ভারতে এই টুর্নামেন্টের লাইভ টেলিকাস্ট ও স্ট্রিমিং রাইটস নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে, যা ফুটবলপ্রেমীদের কিছুটা চিন্তায় রেখেছে।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠেয় নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের ম্যাচগুলো থাকছে একদম স্বস্তিদায়ক সময়ে। গ্রুপ পর্বে টিম ইন্ডিয়ার পাঁচটি ম্যাচের প্রতিটিই ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হবে। ফলে অফিস বা দৈনন্দিন কাজ শেষে সন্ধ্যার চায়ের আড্ডায় ক্রিকেট দেখার সুযোগ লুফে নেবেন কোটি কোটি ভারতীয় সমর্থক।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
একই সময়ে দুটি বিশ্বকাপের এই জোয়ার ভারতীয় ক্রীড়া সংস্কৃতি ও দর্শকদের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। ক্রিকেটের প্রতি ভারতের মজ্জাগত আবেগ এবং ঘরের দল মাঠে নামার কারণে সন্ধ্যার সময়টুকু টেলিভিশন রেটিং ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে ক্রিকেটের দখলে থাকার সম্ভাবনা বেশি। বিপরীতে, গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত সময়টুকু রাজত্ব করবে ফুটবল উন্মাদনা।
এর ফলে ক্রীড়াপ্রেমীদের বিনোদনের কোটা পূর্ণ হলেও, সন্ধ্যা থেকে পরের দিন ভোর পর্যন্ত টানা খেলা দেখার কারণে সমর্থকদের দৈনন্দিন ঘুমের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সব মিলিয়ে, আগামী জুন মাসটি ভারতীয় ক্রীড়াজগতের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে গণ্য হতে যাচ্ছে।