ভারতের মূল ভূখণ্ডে আবার পিছিয়ে গেল বর্ষা, উদ্বেগে দেশবাসী
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2024/08/js-Cloudbursts-in-Himachal-Pradesh-9.jpg?w=850&resize=850,383&ssl=1)
খাতায়-কলমে ১ জুন দেশের মূল ভূখণ্ডে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করার কথা থাকলেও এখনও কেরলে বর্ষার দেখা মেলেনি। ভারতীয় মৌসম ভবন (আইএমডি) জানিয়েছে, আগামী ৩ জুনের আগে দেশে বর্ষা প্রবেশের কোনো সম্ভাবনা নেই। আবহবিদদের একাংশের মতে, এই আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং ৩ জুনের পরেও পিছিয়ে যেতে পারে বর্ষার আগমন। চলতি বছরে এই নিয়ে তিন বার দেশে বর্ষা আগমনের দিনক্ষণ পিছিয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিল মৌসম ভবন। প্রথমে ২৬ মে ও পরে ২৮ মে কেরলে বর্ষা প্রবেশের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত ১ জুনের নির্ধারিত দিনটিও পার হয়ে গেল।
বর্ষা বিলম্বের নেপথ্য কারণ
আবহবিদদের মতে, কেরল উপকূলে পশ্চিমা বায়ু এখনও যথেষ্ট দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। কেরল ও লক্ষদ্বীপের বাতাসে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প থাকা এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও বর্ষা আসার উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এর প্রধান কারণ হিসেবে বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থানরত একটি ঘূর্ণাবর্তকে দায়ী করছে মৌসম ভবন। এই ঘূর্ণাবর্তটি মূলত বর্ষার অনুকূল বাতাসকে বিক্ষিপ্ত ও দুর্বল করে দিচ্ছে, যার ফলে মৌসুমি বায়ু মূল ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে আসতে পারছে না। তবে ১ জুন থেকে এই বাতাস কিছুটা শক্তিশালী হতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাধারণত তিনটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে দেশে বর্ষা প্রবেশের ঘোষণা করা হয়, যার মধ্যে অন্যতম হলো কেরলের ৬০ শতাংশ আবহাওয়া কেন্দ্রে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং আরব সাগরের ওপর পশ্চিমা বায়ুর নির্দিষ্ট গতিবেগ।
সম্ভাব্য প্রভাব ও উদ্বেগ
সাধারণত নির্ধারিত সময়ের থেকে সাত দিন অর্থাৎ ৮ জুন পর্যন্ত বর্ষা না ঢুকলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলম্বিত বলে গণ্য করা হয়। তাই এখনই চরম আশঙ্কার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছে মৌসম ভবন। তবে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত ‘এল নিনো’-র প্রভাবে চলতি জুন মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্য, দক্ষিণ ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের কিছু অংশে এবার বর্ষা দুর্বল হতে পারে এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে। এর ফলে দেশের বেশ কিছু এলাকায় খরা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পানীয় জলের উৎসগুলিতে তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। এই খরা ও জলসংকটের আশঙ্কার মাঝেই বর্ষা আরও বিলম্বিত হলে তা দেশের কৃষিকাজ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।