তপ্ত ভারত শান্ত করতে সুখবর নিয়ে এগোচ্ছে বর্ষা

তপ্ত ভারত শান্ত করতে সুখবর নিয়ে এগোচ্ছে বর্ষা

তীব্র দাবদাহে পুড়তে থাকা ভারতের জন্য অবশেষে স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, কেরলে বর্ষার আগমন এখন সময়ের অপেক্ষা। দেশজুড়ে বর্ষা প্রবেশের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতেই সোমবার কেরলের ৯টি জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। পাথানামথিট্টা, আলাপুঝা, কোট্টায়াম, ইদ্দুকি, এর্নাকুলাম, মালাপ্পুরম, কোঝিকোড়, ওয়ানাড় এবং কুন্নুড় জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড় এবং কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর উত্তর সীমা আরব সাগর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কেরল, তামিলনাড়ু, লাক্ষাদ্বীপ এবং বঙ্গোপসাগরের আরও কিছু অংশে বর্ষা ডেকে আনবে।

দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের আবহাওয়া পরিস্থিতি

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং তামিলনাড়ুতে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেরল ও লাক্ষাদ্বীপে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টি এবং উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি—নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় এবং অরুণাচল প্রদেশে আগামী সপ্তাহে হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

পূর্ব ভারতের পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা

পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। চরম আবহাওয়ার প্রভাব কমাতে আইএমডি সাধারণ মানুষকে বজ্রপাতের সময় বাড়ির ভেতরে থাকার, জলমগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার এবং তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কৃষকদের ফসল এবং গবাদি পশুদের ভারী বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বর্ষার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

ভারত মহাসাগরে তৈরি হওয়া অনুকূল বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির কারণে মৌসুমি বায়ু ভারতের মূল ভূখণ্ডে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহ থেকে মুক্তি দেবে। তবে আবহাওয়া দপ্তর আগেই জানিয়েছে যে, ‘এল নিনো’র প্রভাবের কারণে এবার দেশে সামগ্রিকভাবে প্রয়োজনের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্ব ভারতে পরিমাণ মতো বৃষ্টি হলেও মধ্য ও উত্তর ভারতে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে দেশের কৃষি উৎপাদন, বিশেষ করে খরিফ ফসলের চাষ আংশিক প্রভাবিত হতে পারে এবং কিছু অঞ্চলে জলসংকটের সৃষ্টি হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *