ভোরে কেঁপে উঠল দক্ষিণ ইটালি ও ক্যালিফোর্নিয়া, তীব্র আতঙ্কে দুই মহাদেশের বাসিন্দারা!

মঙ্গলবার ভোরে এক জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইউরোপ ও আমেরিকার দুটি ভিন্ন অঞ্চল। দক্ষিণ ইটালি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় পর পর আঘাত হানা এই কম্পনগুলোর কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে উৎপত্তিস্থল ও গভীরতার ভিন্নতার কারণে দুটি অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রায় ভিন্নতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইটালির দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা ভূমিকম্পটি ছিল বেশ শক্তিশালী। জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের (জিএফজেড) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টাইরেনিয়ান সাগরে রিখটার স্কেলে ৬.১ মাত্রার এই কম্পনটি অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫৩ কিলোমিটার গভীরে। অন্যদিকে, এর কিছু সময় পরই আমেরিকার দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়াতে ৪.১ মাত্রার অপর একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার মতে, কার্ন কাউন্টির এডওয়ার্ডস বিমান ঘাঁটির উত্তর দিকে সৃষ্ট এই কম্পনটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩.৭ মাইল।
ঝুঁকি ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইটালির টাইরেনিয়ান সাগর এবং ক্যালিফোর্নিয়ার এই অঞ্চলটি দীর্ঘকাল ধরেই ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। ইটালির ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.১ হলেও এর কেন্দ্রস্থল ভূপৃষ্ঠের অনেক গভীরে (২৫৩ কিমি) থাকায় কম্পনের তীব্রতা সরাসরি উপরিভাগে কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে। তবে সমুদ্রগর্ভে এমন শক্তিশালী কম্পন অনেক সময় সামুদ্রিক স্রোত বা ভূগর্ভস্থ প্লেটের বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দেয়।
বিপরীতভাবে, ক্যালিফোর্নিয়ার ভূমিকম্পটির মাত্রা ৪.১ হলেও এর গভীরতা ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম—মাত্র ৩.৭ মাইল। ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি সৃষ্ট এমন অগভীর ভূমিকম্প কম মাত্রার হলেও উৎপত্তিস্থলের আশেপাশের এলাকায় তীব্র ঝাঁকুনি তৈরি করে, যা ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোতে ফাটল ধরাতে পারে।
পর পর দুটি ভিন্ন মহাদেশে এই কম্পনের ফলে বড় ধরনের কোনো সুনামি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর তাৎক্ষণিকভাবে না পাওয়া গেলেও, স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার বিমান ঘাঁটি সংলগ্ন এলাকায় কোনো কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আফটারশক বা অনুকম্পনের আশঙ্কায় দুই দেশের উপদ্রুত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদ ও ভূবিজ্ঞানীরা।