পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ নয়, কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর কাছে জোরালো দাবি অধীর চৌধুরীর

মুর্শিদাবাদসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রেলের জায়গায় বসবাসকারী ও ব্যবসা পরিচালনাকারী হকারদের উচ্ছেদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রবীণ রাজনীতিক অধীর চৌধুরী। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আর্জি জানিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যথাযথ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন ছাড়া হকারদের উচ্ছেদ করা কোনোভাবেই সমীচীন হবে না।
জীবিকার সুরক্ষা ও মানবিক আবেদন
পশ্চিমবঙ্গ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ একটি রাজ্য হওয়ার কারণে রেলের জমিতে গড়ে ওঠা ছোট ছোট ব্যবসা বা হকারি পেশা বহু মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। অধীর চৌধুরীর মতে, জনবহুল এলাকায় রেলের সম্পত্তিতে হকাররা যে পেশায় নিয়োজিত আছেন, তা কেবল তাদের উপার্জনের একমাত্র পথই নয়, বরং বহু পরিবারের টিকে থাকার ভিত্তি। তিনি এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে অন্যায্য ও অনৈতিক হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, বিকল্প ব্যবস্থা না করে কাউকে উচ্ছেদ করলে তা তীব্র মানবিক সংকটের জন্ম দেবে।
উচ্ছেদের প্রভাব ও বাস্তব চিত্র
রাজ্যজুড়ে হকার উচ্ছেদের পরিকল্পনা কার্যকর হলে একদিকে যেমন বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের দৈনিক রোজগার হারাবেন, অন্যদিকে আর্থসামাজিক কাঠামোতে এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক হকার বছরের পর বছর ধরে রেলের জায়গায় জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন, ফলে তাদের হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অধীর চৌধুরী তার চিঠিতে পুনর্বাসনের ওপর জোর দিয়ে কেন্দ্রকে নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের পেটে লাথি না পড়ে এবং একটি সুশৃঙ্খল সমাধানের পথ প্রশস্ত হয়।