“বিল্লা নম্বর ৭৮৬ থেকে নবান্নের আমন্ত্রণ!”— শুভেন্দুর দরবারে ২০ সাংসদ, মূল দাবি ‘সম্মান’

“বিল্লা নম্বর ৭৮৬ থেকে নবান্নের আমন্ত্রণ!”— শুভেন্দুর দরবারে ২০ সাংসদ, মূল দাবি ‘সম্মান’

নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা ২০ জন লোকসভা সাংসদ গঠন করেছেন ‘ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)। দল গঠনের পর থেকেই দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। অবশেষে মঙ্গলবার নয়াদিল্লির হেইলি রোডের বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি প্রভারী ভূপেন্দ্র যাদবের উপস্থিতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মধ্যাহ্নভোজের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

“সম্মান নিয়ে রাজনীতি করতে চাই”— পার্থ ভৌমিকের ক্ষোভ

বৈঠকে ২০ জন সাংসদের মনের ক্ষোভ ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। নাট্যধারার সঙ্গে যুক্ত পার্থ তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন, “আমার সাংসদ তহবিলের প্রায় দেড় কোটি টাকা বীজপুরের জন্য বরাদ্দ করা সত্ত্বেও স্থানীয় বিধায়ক সামাজিক মাধ্যমে ও প্রকাশ্যে আমার বিরুদ্ধে অপমানজনক কথা বলছেন। এভাবে সম্মান হারিয়ে রাজনীতি করার মানে কী? এতে তো শুধু পদটাই থেকে যায়, যেন সিনেমার ‘বিল্লা নম্বর ৭৮৬’!”

অমিতাভ বচ্চনের বিখ্যাত ‘দিওয়ার’ সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে করা এই মন্তব্যের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানতে চান, “তাহলে উপায় কি? আপনারা ঠিক কী চাইছেন?” জবাবে পার্থ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁদের মূল দাবি হল ‘যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা’

এনডিএ শরিক হিসেবে যৌথ বার্তা

পার্থ ভৌমিক প্রস্তাব দেন, এনডিএ-র অন্যান্য শরিকরা যেভাবে সম্মান পান, তাঁদেরকেও সেই মর্যাদা দিতে হবে। যেমন— বারাসাতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দলীয় কার্যালয় উদ্বোধনে স্থানীয় বিজেপি বিধায়কদের এবং ব্যারাকপুরে পার্থ ভৌমিকের কার্যালয় উদ্বোধনে অর্জুন সিং সহ জেলার বিজেপি নেতাদের উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন। এতে একদম নিচু তলার কর্মীদের কাছে স্পষ্ট বার্তা যাবে যে তাঁরা সবাই একজোটে কাজ করছেন।

সূত্রের খবর, এই প্রস্তাবকে ‘ইতিবাচক’ বলে সাধুবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশে থাকা ভূপেন্দ্র যাদবও এই প্রস্তাবে সায় দেন।

নবান্নে আমন্ত্রণ ও বাড়তি সুবিধা

বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী ১৮ বা ১৯ অগস্ট এই ২০ জন সাংসদকে নবান্নে বিশেষ বৈঠকের জন্য আহ্বান জানাবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিধায়কদেরও উপস্থিত থাকতে বলা হবে, যাতে শাসক শিবিরের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের বার্তা স্পষ্ট হয়।

এর পাশাপাশি, সাংসদদের জন্য বিশেষ কিছু সুবিধার কথা জানানো হয়েছে:

  • এলাকাভিত্তিক গরিব মানুষদের দেওয়ার জন্য প্রতিটি সাংসদ ৫,০০০ করে ত্রিপল পাবেন।
  • ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় প্রতি সাংসদ ৫,০০০ জন উপভোক্তার নাম সুপারিশ করতে পারবেন।

তবে দলীয় সুবিধার চেয়েও, নিজেদের রাজনৈতিক সম্মান এবং প্রশাসনিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতেই বেশি জোর দিয়েছেন এই ২০ জন সাংসদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *