বিমা না থাকলে মিলবে না তেল! পথদুর্ঘটনা রুখতে সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন নির্দেশ

তৃতীয় পক্ষের বা ‘থার্ড পার্টি’ বিমা (Third-Party Insurance) ছাড়াই দেশের রাস্তায় দেদার ছুটছে কোটি কোটি বাইক ও গাড়ি। এর ফলে কোনো পথদুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা নিহতের পরিবার আইনানুগ ক্ষতিপূরণ পেতে চরম দুর্ভোগের শিকার হন। এই মারাত্মক সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এবার দেশজুড়ে ‘বিমা না থাকলে তেল নয়’ (No Insurance, No Fuel) নীতি চালুর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের নির্দিষ্ট কিছু জাতীয় সড়কে পরীক্ষামূলকভাবে এই নিয়ম চালু করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ দেশের জাতীয় সড়কে দিন দিন বাড়তে থাকা দুর্ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সাথে টোল প্লাজাগুলিতে দীর্ঘ যানজট এড়াতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে বিমা যাচাইয়ের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
পরিসংখ্যান ও আদালতের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলি:
- ৫৬ শতাংশ গাড়িই বিমহীন: অর্থনৈতিক বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির (২০২৪-২৫) প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৩০.৪৮ কোটি যানবাহনের মধ্যে ১৬.৫৪ কোটি (প্রায় ৫৬%) গাড়িরই কোনো বৈধ থার্ড পার্টি বিমা নেই!
- পেট্রোল পাম্পে বিমা যাচাই: ইনস্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (IRDA) এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রককে (MoRTH) যৌথভাবে এমন ব্যবস্থা তৈরি করতে বলা হয়েছে, যাতে জ্বালানি কেনার সময়েই বিমার মেয়াদ যাচাই করা যায়। বিমা না থাকলে সংশ্লিষ্ট পেট্রোল পাম্প গাড়িটিকে তেল দেবে না।
- বিমার নতুন মেয়াদের নিয়ম: আদালত জনস্বার্থে বিমার নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এখন থেকে নতুন চার চাকার গাড়ির জন্য ৪ বছর এবং দু-চাকার যানের জন্য ৬ বছরের থার্ড পার্টি বিমা করা বাধ্যতামূলক করা হলো।
- পুলিশের হাতে ডিজিটাল ডিভাইস: পুলিশ যাতে রাস্তায় সহজেই বিমহীন গাড়ি সনাক্ত করতে পারে, সে জন্য তাদের বিশেষ ডিজিটাল হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি সরাসরি ‘বাহন’ (VAHAN) পোর্টাল ও ইনস্যুরেন্স ডেটাবেসের সাথে যুক্ত থাকবে, যা দেখে অন-স্পট চালান কাটা সম্ভব হবে।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?
মোটরযান আইনের ১৪৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী থার্ড পার্টি বিমা বাধ্যতামূলক করার মূল উদ্দেশ্য হলো দুর্ঘটনার শিকার পরিবারগুলোকে দীর্ঘ আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা করা এবং দ্রুত ক্ষতিপূরণ সুনিশ্চিত করা। যে পরিবারগুলো উপার্জনকে হারিয়েছে বা দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, বিমা না থাকায় তাদের অবস্থা অত্যন্ত মর্মান্তিক হয়ে পড়ে।
এছাড়া, গ্রাহকরা যাতে শুধু ন্যূনতম বিমা নয়, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী পার্সোনাল অ্যাক্সিডেন্ট কভার বা অন্যান্য অ্যাড-অন পলিসি বেছে নিতে পারেন, তার জন্য আইআরডিএ-কে বিভিন্ন বিকল্প প্যাকেজ তৈরির নির্দেশও দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।