জল ছাড়াই রূপচর্চা, আজব প্রথা মেনে চলেন এই আদিবাসী নারীরা!

আফ্রিকার উত্তর নামিবিয়ার গভীর অরণ্যে বসবাসকারী ‘হিম্বা’ উপজাতির জীবনযাত্রা আধুনিক সভ্যতার কাছে এক পরম বিস্ময়। প্রায় ৫০ হাজার জনসংখ্যা বিশিষ্ট এই সম্প্রদায়ের নারীরা তাঁদের সারাজীবনে মাত্র একবারই জল দিয়ে স্নান করেন, আর সেটি তাঁদের বিয়ের দিন। জলসংকটের কারণে এই আদিবাসী গোষ্ঠীর মধ্যে জল ব্যবহার করে স্নান করা বা কাপড় কাচায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে জলের ব্যবহার না করেও তাঁরা কীভাবে শরীরকে জীবাণুমুক্ত ও সতেজ রাখেন, তা এক অনন্য জীবনদর্শন।
ধোঁয়া দিয়ে স্নান ও সৌন্দর্য চর্চা
জল ব্যবহার না করার বিকল্প হিসেবে তাঁরা বেছে নিয়েছেন ‘স্মোক বাথ’ বা ধোঁয়া দিয়ে স্নান পদ্ধতি। বিশেষ ধরনের ভেষজ উদ্ভিদ ও গাছের কাঠ একটি পাত্রে জ্বালিয়ে তাঁরা সেই ধোঁয়া ও বাষ্প পুরো শরীরে গ্রহণ করেন। এই প্রাচীন পদ্ধতি শরীরের দুর্গন্ধ দূর করার পাশাপাশি জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি তীব্র রোদ ও পোকামাকড়ের হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করতে তাঁরা এক বিশেষ লেপ ব্যবহার করেন। পশুর চর্বি ও ‘হেমাটাইট’ নামক একপ্রকার লাল মাটির মিশ্রণে তৈরি এই প্রলেপ শরীরে মাখার ফলে তাঁদের ত্বক সবসময় উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় থাকে।
প্রকৃতির সান্নিধ্যে বেঁচে থাকা এই হিম্বা নারীদের এই প্রথা শুধুমাত্র ঐতিহ্যের অংশ নয়, বরং প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার এক অসাধারণ কৌশল। যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা এই অভ্যাস তাঁদের ত্বককে স্বাস্থ্যকর ও আকর্ষণীয় করে তোলে, যার কারণে এই উপজাতির নারীদের আফ্রিকার অন্যতম সুন্দরী হিসেবে গণ্য করা হয়।