পাকভূমে চরম হাহাকার: আকাশছোঁয়া নিত্যপণ্যের দাম, দিশেহারা সাধারণ মানুষ

নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যে দিশেহারা পাকিস্তান, ভেঙে পড়েছে সাধারণের জনজীবন
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক সংকটের জেরে দেশটিতে নজিরবিহীন মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। ফলে ইন্ধন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সব দ্রব্যের দাম এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে দেশটির নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধির কবলে সাধারণ মানুষ
দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় পরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এক মাস আগেও যে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ২৫০ রুপির আশেপাশে ছিল, তা বর্তমানে ৪০০ রুপির উপরে অবস্থান করছে। জ্বালানির এই আকাশচুম্বী দামের সরাসরি প্রভাব পড়ছে গণপরিবহণ ভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ওপর। অনেক সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন, এমনকি দ্বি-চক্রযান চালানোও এখন অনেকের সাধ্যের বাইরে। সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে, বেতন অপরিবর্তিত থাকলেও জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, তাতে ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংকটের কারণ ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহণ পথ ‘হোরমুজ প্রণালী’ নিয়ে চলমান উত্তজনা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে। এর ফলেই পাকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি চরম আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে নিত্যপণ্যের দাম ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতি দেশটিকে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।