জনতাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পথে নামতে দেবে না, তৃণমূলকে নিয়ে তোপ শমীক ভট্টাচার্যের

রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়িয়ে রানি রাসমণি রোডে ধর্না কর্মসূচি ঘিরে নতুন সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। ভোট পরবর্তী অস্থিরতা ও বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হতে চেয়ে ধর্নায় বসার অনুমতি চেয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পুলিশ তাঁকে ওই স্থানে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। এর পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে ‘ওয়াই’ চ্যানেলে মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য ধর্নার প্রস্তাব দেওয়া হলে শাসকদল তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে, তখনই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূলের জনভিত্তি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন।
জনরোষের মুখে তৃণমূল
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে তৃণমূল কংগ্রেসের পথে নামার বা জনগণের মুখোমুখি হওয়ার মতো নৈতিক অবস্থা নেই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাজ্যের মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করেছে। শমীকের মতে, দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কর্মীদের একাংশের উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের জেরে জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন জনগণের দৃষ্টি ঘোরাতে দিল্লি বা অন্য কোনো স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা করতে পারেন, তবে রাজ্যের মানুষ আর তৃণমূলের কর্মসূচিতে আগ্রহী নয়।
রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব
নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দলীয় কর্মীদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল। দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মারধরের অভিযোগও তুলেছে ঘাসফুল শিবির। এই প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে শমীক ভট্টাচার্যের এদিনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বিজেপি বিষয়টিকে তৃণমূলের রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবেই দেখছে। রাজ্যে বিজেপির বড় জয়ের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থার যে অবনতি হয়েছে, এই বিতর্ক তাকেই আরও প্রকট করে তুলল। তৃণমূলের দাবি, পুলিশের মাধ্যমে এই অনুমতি না দেওয়া আসলে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের শামিল, যা রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও জটিল করে তুলছে।