‘আমি না থাকলে তুমি জেলে থাকতে, পাগল!’ নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

‘আমি না থাকলে তুমি জেলে থাকতে, পাগল!’ নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

লেবাননে ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে হেজবোল্লাকে লক্ষ্য করে ইজরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলার জেরে এবার সরাসরি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অতি সম্প্রতি এক ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করেছেন ট্রাম্প, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোড়ন তৈরি করেছে।

ফোনালাপে নজিরবিহীন ক্ষোভ

একটি মার্কিন সূত্র মারফত জানা গেছে, লেবাননে যুদ্ধ সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তে চরম অসন্তুষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফোনে নেতানিয়াহুর ওপর মেজাজ হারান। ট্রাম্প কড়া ভাষায় ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “তুমি এসব কী করছ? একটা আস্ত পাগল…। আমি না থাকলে তুমি জেলে থাকতে। আমি তোমার জীবন বাঁচাচ্ছি।” ট্রাম্প আরও যোগ করেন, নেতানিয়াহুর এই একগুঁয়ে নীতির কারণে বিশ্বজুড়ে সবাই এখন তাকে এবং ইজরায়েলকে ঘৃণা করতে শুরু করেছে। দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক বেউফোর্ট দুর্গ দখল এবং সেখানে ৪৪ বছর পর ইজরায়েলের পতাকা ওড়ানোর মতো আগ্রাসী ঘটনাগুলোর পরেই মূলত ট্রাম্পের এই চরম প্রতিক্রিয়া সামনে এল।

সংঘাতের কারণ ও সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক প্রভাব

মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাওয়া এবং ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ট্রাম্প এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সঙ্গে আলোচনা টিকিয়ে রাখা, কিন্তু নেতানিয়াহুর লেবানন অভিযান সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ভেস্তে দিতে পারে বলে ওয়াশিংটন মনে করছে।

এই পরিস্থিতির জেরে ইরানকে কেন্দ্র করে আমেরিকার নীতিতেও এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প এক জরুরি বৈঠক করলেও সেখানে কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই নিয়ন্ত্রণহীন সামরিক পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ শিথিল হতে পারে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কূটনৈতিক চাপ বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আপাতত হুঁশিয়ারি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করলেও, নেতানিয়াহুর এই অনমনীয় মনোভাবের কারণে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে ইজরায়েলের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *