চুক্তি শেষ কিন্তু ক্লাব নেই, আইএসএল ফুরোতেই মাঝদরিয়ায় দেড়শো ফুটবলার!

চুক্তি শেষ কিন্তু ক্লাব নেই, আইএসএল ফুরোতেই মাঝদরিয়ায় দেড়শো ফুটবলার!

আইএসএল মরসুমের পালা গুটতেই ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় লড়াই এখন শুরু হয়েছে মাঠের বাইরে। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) এবং ক্লাবগুলির মধ্যকার তীব্র টানাপোড়েনের জেরে একযোগে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন দেশের প্রায় ১৫০ ফুটবলার। গত রবিবারই এই খেলোয়াড়দের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, যার ফলে তাঁরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মুক্ত খেলোয়াড়’ (ফ্রি এজেন্ট)। দলছুট এই ফুটবলারদের তালিকায় রয়েছেন জাতীয় দলের বর্তমান ও সাম্প্রতিক অতীতের ২০ জনেরও বেশি তারকা সদস্য। আগামী মরসুমের পরিকাঠামো নিয়ে ধোঁয়াশা না কাটায় এই বিপুল সংখ্যক ফুটবলারের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি খাদের কিনারায়।

ঝুলে রয়েছে নতুন মরসুমের ভাগ্য

গত ডিসেম্বরে ফেডারেশনের সঙ্গে সাবেক বাণিজ্যিক অংশীদারদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই এই সংকটের সূত্রপাত। এর প্রভাব পড়েছে আসন্ন ২০২৫-২৬ মরসুমেও। আগামী মরসুমটি পূর্ণাঙ্গ রূপে হবে নাকি গতবারের মতো সংক্ষিপ্ত সংস্করণে হোম-অ্যাওয়ে ফরম্যাটে আয়োজন করা হবে, তার কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি। ফেডারেশন আগামী ১২ জুন থেকে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত ফুটবলার নথিভুক্তকরণের সময়সীমা নির্ধারণ করলেও, লিগের রূপরেখা স্পষ্ট না হওয়ায় ক্লাবগুলি বাজেট নির্ধারণ ও দল গঠনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। ফলে জাতীয় দলের অধিনায়ক সন্দেশ জিঙ্ঘন এবং ডিফেন্ডার রাহুল ভেকের মতো তারকা ফুটবলারদের ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নচিহ্নের মুখে। মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের মতো বড় ক্লাবগুলিও ফেডারেশনের জবাবের অপেক্ষায় দল গঠন স্থগিত রেখেছে এবং একই সাথে টম অলড্রেড, দিমিত্রি পেত্রাতোস ও জেসন কামিন্সের মতো বিদেশি তারকাদের ছাড়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে।

আর্থিক ক্ষতি ও শোষণের আশঙ্কা

এই প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছেন ফুটবলাররা। মুক্ত খেলোয়াড় হয়ে যাওয়ায় চুক্তি আলোচনার টেবিলে তাঁদের দর কষাকষির ক্ষমতা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গেছে। ফলে স্বাভাবিক পরিস্থিতির চেয়ে অনেক কম অর্থে সই করতে বাধ্য হওয়ার বা শোষিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, খেলোয়াড়রা ফ্রি এজেন্ট হয়ে যাওয়ায় ক্লাবগুলিও কোনো ট্রান্সফার ফি পাবে না, যা তাদের বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে দাঁড় করাবে। এই সংকটের বড় আঁচ পড়তে চলেছে মণিপুর ও মিজোরাম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের ফুটবলারদের ওপর, যাঁরা এই লিগকে পেশা করে পরিবার চালান।

বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বেই আটকে সমাধান

এই নয়া অচলাবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে লিগের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ। গত মার্চে নতুন বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে জিনিয়াস স্পোর্টস আগামী ১৫+৫ বছরের জন্য বার্ষিক ২ হাজার ১২৯ কোটি টাকার সর্বোচ্চ দরপ্রস্তাব দিলেও ক্লাবগুলি তাতে রাজি নয়। আইএসএল ক্লাবগুলির দাবি, জিনিয়াস স্পোর্টস শুধুমাত্র তথ্য ও প্রযুক্তি অংশীদার হিসেবে থাকুক এবং লিগের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের ৯০ শতাংশ থাকুক ক্লাবগুলির হাতে। বাকি ১০ শতাংশ থাকবে ফেডারেশনের কাছে। গত মাসে কলকাতায় ক্লাব ও ফেডারেশন কর্তাদের বৈঠকেও এই মালিকানা দ্বন্দ্বের কোনো রফাসূত্র মেলেনি। ফলে নতুন চুক্তির খসড়া অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় ফুটবলের আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ কাটছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *