অন্ধ বিরোধিতা নয়, কলকাতায় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বিলিতে নামলেন তৃণমূল কাউন্সিলররা

কলকাতায় রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর ফর্ম বিলিকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সৌজন্যের ছবি ধরা পড়ল। বিধানসভা ভোটের পর রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের অন্ধ বিরোধিতা না করে নাগরিক পরিষেবাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বিরোধী শিবিরের পুরপ্রতিনিধিরা। কলকাতার ১৩৭ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ৬০ জন কাউন্সিলর তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় এই ফর্ম বিলির কাজে সরাসরি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। পুরসভার ওয়ার্ড অফিস, ক্লাব, বরো অফিস এবং পুজো কমিটির কার্যালয় থেকে জোরকদমে চলছে এই ফর্ম বিতরণের কাজ।
সহযোগিতার রাজনীতি ও নাগরিক পরিষেবা
তৃণমূল কাউন্সিলরদের বড় অংশের মতে, জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যোগ্য মহিলাদের কাছে ৩০০০ টাকার ভাতা পৌঁছে দেওয়া তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব। রাজ্য সরকারের একাধিক প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের পুরপ্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো এবং রাজনৈতিক হিংসা রোধে শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের ইতিবাচক মনোভাব এই সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে স্বয়ং মেয়র পারিষদ অসীম বসু নিজে উপস্থিত থেকে মহিলাদের ফর্ম পূরণে সাহায্য করছেন। সিঁথি, মানিকতলা, শ্যামপুকুর থেকে শুরু করে দক্ষিণের গড়িয়াহাট, বেহালা ও যাদবপুরেও এই যৌথ তৎপরতা চোখে পড়ছে।
প্রভাব ও রাজনৈতিক তরজা
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ কোনো রাজনৈতিক জটিলতা ছাড়াই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, অন্যদিকে তেমনই রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হচ্ছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে মৃদু রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, জনরোষ থেকে বাঁচতেই তৃণমূলের একাংশ এই ফর্ম বিলিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। তাই বিজেপি কর্মীরাও সমান্তরালভাবে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ক্যাম্প করে ফর্ম বিতরণ করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব ওয়ার্ডে কাউন্সিলররা এখনও এগিয়ে আসেননি, সেখানে পুরসভার আশা কর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে বস্তিবাসী ও স্বল্পশিক্ষিত মহিলাদের ফর্ম পূরণে সহায়তা করা হচ্ছে।