জনরোষের তীব্র চাপ, নামখানায় আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হলেন তৃণমূল নেতারা

রাজ্যজুড়ে কাটমানি ও তোলাবাজি ইস্যুতে শাসকদলের অস্বস্তি যেন কিছুতেই কমছে না। কোচবিহার বা ইসলামপুরের পর এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায় প্রকাশ্যে এল কাটমানির টাকা ফেরতের চাঞ্চল্যকর ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দরিদ্র গ্রামবাসীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা অবশেষে আমজনতার চাপের মুখে পড়ে ফেরত দিতে বাধ্য হলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে।
ক্ষোভের মুখে পিছুটান
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নামখানার ৪৫টি পরিবারের কাছ থেকে আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিবারপিছু ৫ হাজার টাকা করে কাটমানি নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই বঞ্চনার শিকার হওয়ার পর অবশেষে সরব হন গ্রামবাসীরা। জনরোষের আঁচ টের পেয়ে এবং বেগতিক বুঝে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতারা গ্রামবাসীদের ডেকে সেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। বিরোধী দল বিজেপির পক্ষ থেকে এই টাকা ফেরতের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে শাসকদলকে তীব্র নিশানা করা হয়েছে।
রাজ্যজুড়ে একই ছবি ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা এক গভীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এর আগে কোচবিহারের ঘুঘুমারিতে কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে মাইকিং করা হয়েছিল, এমনকি ইসলামপুরের সুজালি গ্রাম পঞ্চায়েতেও আবাস দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড়সড় আন্দোলন গড়ে ওঠে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতে একাধিকবার কাটমানি রুখতে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া সত্ত্বেও তৃণমূলের নিচু তলার নেতারা যে তা আমল দেননি, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ স্তরে এই ধরণের গণপ্রতিরোধ ও টাকা ফেরতের ঘটনা আগামী দিনে শাসকদলের ভাবমূর্তিকে আরও বড় সংকটে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে গ্রামীণ স্তরে বিরোধী দলগুলির রাজনৈতিক জমি শক্ত করার ক্ষেত্রেও এই দুর্নীতি ইস্যু বড় অস্ত্র হয়ে উঠছে।