সরকারি ত্রিপল আত্মসাৎ, এবার শ্রীঘরে আসানসোলের তৃণমূল কাউন্সিলর তরুণ চক্রবর্তী

রাজ্যে শাসকদলের জনপ্রতিনিধিদের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগে ফের শোরগোল পড়ে গেল। গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণের ত্রিপল আত্মসাৎ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হলেন আসানসোল পুরনিগমের ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তরুণ চক্রবর্তী। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার তাঁর বাড়িতে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল উদ্ধার করে। এই ঘটনার পাশাপাশি হুগলিতেও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও এক তৃণমূল নেতা, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
ত্রাণের ত্রিপল কেলেঙ্কারি ও একাধিক অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার দরিদ্র ও দুঃস্থ মানুষের সহায়তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে ত্রিপল পাঠানো হয়েছিল, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি না করে নিজের বাড়িতে মজুত করে রেখেছিলেন কাউন্সিলর তরুণ চক্রবর্তী। এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং হাতেনাতে সরকারি ত্রিপল উদ্ধার করে। তবে কেবল ত্রিপল কেলেঙ্কারিই নয়, ধৃত এই তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এলাকায় অবৈধ বালির কারবার এবং তোলাবাজি-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ধৃত নেতাকে আসানসোল আদালতে তোলার পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে থাকা বাকি যোগসূত্রগুলি খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় জেরা শুরু করেছে পুলিশ।
হুগলিতেও পুলিশের ধরপাকড়
আসানসোলের এই ঘটনার সমান্তরালেই হুগলিতেও পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। তোলাবাজির অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে উত্তরপাড়া শ্রীরামপুর ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কৌশিক দাসকে। একইসঙ্গে তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী অনিরুদ্ধ বাগ ও বলবির সিংকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো, তোলাবাজি এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
পরপর এই গ্রেপ্তারিগুলি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, স্থানীয় স্তরে শাসকদলের একাংশের এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ ও দুর্নীতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুলিশ এই কড়া পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে। ঘটনাগুলির জেরে এলাকায় যেমন রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে, তেমনই অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।