আফ্রিকায় ছড়াচ্ছে ইবোলা ভাইরাস, দমদম বিমানবন্দরে কড়া সতর্কতা

আফ্রিকায় ছড়াচ্ছে ইবোলা ভাইরাস, দমদম বিমানবন্দরে কড়া সতর্কতা

বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে আফ্রিকার দেশগুলিতে থাবা বসিয়েছে মারাত্মক সংক্রামক ইবোলা ভাইরাস। উগান্ডা ও কঙ্গোসহ বিভিন্ন এলাকায় এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় কলকাতার দমদম বিমানবন্দরে বিশেষ নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর।

আফ্রিকা থেকে রাজ্যে ফেরা যাত্রীদের স্ক্রিনিংয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্দেশিকা মেনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব পুণ্যসলিলা শ্রীবাস্তব প্রতিটি রাজ্যকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন। বঙ্গে নিযুক্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোঅর্ডিনেটর ডা. প্রীতম রায় জানিয়েছেন, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত কোনও ইবোলা আক্রান্তের খোঁজ মেলেনি। তবে আগাম সতর্কতা হিসেবে বিমানবন্দরগুলিতে আফ্রিকার দেশ থেকে আসা যাত্রীদের মধ্যে উপসর্গ থাকলে স্বঘোষণাপত্র বা সেলফ ডিক্লারেশন জমা দিতে বলা হচ্ছে।

উপসর্গ ও স্বাস্থ্যদপ্তরের আগাম প্রস্তুতি

জনস্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, ইবোলা অত্যন্ত মারাত্মক একটি সংক্রামক ব্যাধি। এই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে হঠাৎ তীব্র জ্বর, প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা, মাথাব্যথা, গলা ব্যথা এবং ডায়েরিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে। সন্দেহভাজন রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ, তা সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ এবং পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি যে কোনও জরুরি অবস্থা সামাল দিতে প্রতিটি রাজ্যে দ্রুত সাড়া প্রদানকারী দল বা ‘র‌্যাপিড রেসপন্স টিম’ তৈরি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংক্রমণের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে আফ্রিকার কঙ্গোর ইতুরি এলাকায় একটি অজ্ঞাত রোগে উচ্চ মৃত্যুহারের খবর সামনে আসে। পরবর্তীতে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা যায় আক্রান্তদের একাংশের শরীরে ইবোলা ভাইরাসের একটি বিশেষ প্রজাতি রয়েছে। উগান্ডাতেও ইতিমধ্যে এই ভাইরাসের কারণে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে।

যেহেতু ইবোলা অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায় এবং এতে মৃত্যুর হার অনেক বেশি, তাই আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রীদের মাধ্যমে এই সংক্রমণ যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেটাই এখন প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সময়মতো স্ক্রিনিং এবং কড়া নজরদারি বজায় না থাকলে এই ভাইরাস জনস্বাস্থ্যের জন্য বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *