তৃণমূল ভাঙার দোরগোড়ায়! নিশানা অভিষেককে, তবুও মমতাতেই ভরসা ঋতব্রতর

তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ও দলীয় ভাঙনের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর এই আনুগত্যের বার্তা রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় অভিষেক ও আইপ্যাক
দল ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার জন্য ঋতব্রত সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর দাবি, বর্তমান নেতৃত্বের অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত ও ভুল রাজনীতির কারণেই দলের এই বেহাল দশা। পাশাপাশি, তৃণমূলের ওপর আইপ্যাকের (I-PAC) অত্যধিক প্রভাবকেও তিনি দলের বর্তমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, বাইরের পরামর্শদাতার ওপর ভিত্তি করে দল পরিচালনার ফলে পুরনো ও বিশ্বস্ত নেতাদের গুরুত্ব কমেছে, যা দলের ভাঙনকে ত্বরান্বিত করেছে।
নেত্রীর প্রতি আনুগত্য ও বর্তমান অবস্থান
এত কিছুর পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ঋতব্রতর এই ‘নেত্রী’সুলভ সম্মান প্রদর্শন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এক মিশ্র বার্তা পাঠাচ্ছে। একাংশের মতে, তিনি সম্ভবত দলের মূল নেতৃত্বের (অভিষেক) সাথে দূরত্ব তৈরি করে নেত্রীর (মমতা) কাছে নিজের গুরুত্ব বা গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে মনে করছেন, তিনি কৌশলী হয়ে তৃণমূলের বিভাজনের নেপথ্যে অভিষেকের ভূমিকা তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব
ঋতব্রতর এই বিদ্রোহ এবং দলের একাংশের অসন্তোষ তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে কতটা দুর্বল করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে, রাজ্যে বিধানসভা ভোটের পরবর্তী সময়ে দলের অভ্যন্তরে ক্ষমতার লড়াই যে চরমে পৌঁছেছে, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট। বহিষ্কৃত বিধায়ক হয়েও তিনি যেভাবে দলের ভাঙনের জন্য সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন, তা তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয় এবং দল এই ভাঙন আটকাতে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।