একসময়ের ‘সব কি পসন্দ’ নিরমা, একটি ভুলেই কীভাবে ধূলিসাৎ ১৭ হাজার কোটির ডিটারজেন্ট সাম্রাজ্য!

১৯৬৯ সালে এক সাধারণ রসায়নবিদ কার্সনভাই প্যাটেল নিজের বাড়ির ল্যাবরেটরিতে তৈরি করেছিলেন এক অভিনব ডিটারজেন্ট পাউডার। নিজের অকালপ্রয়াত কন্যাসন্তান নিরুপমার ডাকনাম ‘নিরমা’র অনুসরণে হলুদ রঙের সেই পাউডারের নামকরণ করেন তিনি। তৎকালীন বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী ‘সার্ফ’ যেখানে প্রতি কেজি ১৩ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে কার্সনভাই মাত্র সাড়ে তিন টাকা কেজি দরে নিরমা বিক্রি শুরু করেন। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ভারতীয়দের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকায় এই সস্তা ওয়াশিং পাউডার দ্রুত জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছায়। পরবর্তীতে ফ্রক পরিহিত এক ছোট্ট মেয়ের লোগো এবং রেডিও ও টেলিভিশনে সেই বিখ্যাত জিঙ্গল ‘ওয়াশিং পাউডার নিরমা’র হাত ধরে ১৯৮৫ সালের মধ্যে দেশের ডিটারজেন্ট বাজারের প্রায় ৬০ শতাংশ একাই দখল করে নেয় এই ব্র্যান্ড।
প্রতিযোগিতার বাজারে উদাসীনতা ও সাম্রাজ্যের পতন
নব্বইয়ের দশকের শুরুতেই নিরমার এই একচেটিয়া বাজারে বড় ধাক্কা দেয় তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সার্ফ। তারা নিরমার সমমূল্যে বাজারে নিয়ে আসে ‘হুইল’ ওয়াশিং পাউডার। সস্তা হওয়ার পাশাপাশি হুইল-এ এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল যা নিরমায় ছিল না, যেমন আকর্ষণীয় সুগন্ধ এবং কাপড় কাচার পর হাত জ্বালা না করা বা কাপড়ের কোমলতা বজায় রাখা। এর পরপরই বাজারে প্রবেশ করে আরএসপিএল কো ম্পা নির ‘ঘড়ি’ ডিটারজেন্ট এবং বহুজাতিক সংস্থা প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বলের ‘এরিয়েল’। ঘড়ি ডিটারজেন্ট তাদের ‘পহেলে ইস্তেমাল করে ফির বিশওয়াস করে’ স্লোগান দিয়ে দ্রুত সাধারণ মানুষের ভরসা জিতে নেয়।
ভুলের মাশুল ও সম্ভাব্য প্রভাব
তীব্র প্রতিযোগিতার এই ঝড়ের মুখেও ব্র্যান্ডটির প্রতিষ্ঠাতা কার্সনভাই প্যাটেল এক প্রকার নিস্পৃহ ও অপরিবর্তিত ছিলেন। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরমার প্যাকেজিং, বিজ্ঞাপন বা পণ্যের গুণগত মানে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন বা চমক আনার চেষ্টা করা হয়নি। আধুনিক বিপণন কৌশল এবং ভোক্তাদের পরিবর্তিত চাহিদাকে গুরুত্ব না দেওয়ার এই একটি ভুলেই বাজারে পিছিয়ে পড়ে নিরমা। বর্তমান বাজারে অন্যান্য ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নিরমা গোষ্ঠী সক্রিয় থাকলেও, ডিটারজেন্টের সেই ১৭ হাজার কোটি টাকার একচ্ছত্র সাম্রাজ্য ও গৌরব আজ সম্পূর্ণ অতীত।