জীবনতলায় উদ্ধার বিপুল কার্তুজ, শওকত মোল্লা ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার বাড়িতে মিলল অস্ত্রভাণ্ডার

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের জীবনতলায় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ রাইফেলের কার্তুজ ও খোসা উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জবেদ শেখ নামে ওই স্থানীয় তৃণমূল নেতা ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। মঙ্গলবার দুপুরে জীবনতলা থানার কালিকাতলা এলাকায় ওই নেতার বাড়িতে পুলিশি অভিযানে এই বিপুল অস্ত্রভাণ্ডারের হদিস মেলে, যা নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
তালপাতার আড়ালে কার্তুজের স্তূপ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে কালিকাতলা এলাকায় জবেদ শেখের বাড়িতে হানা দেয় জীবনতলা থানার পুলিশ। তল্লাশি চালানোর সময় বাড়ির পাশে স্তূপাকার করে রাখা তালপাতা সরাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় তদন্তকারীদের। সেখান থেকে দূরপাল্লার রাইফেলের মোট ৭৫টি তাজা কার্তুজ এবং প্রায় শতাধিক ব্যবহৃত খোল উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযানের সময় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বাড়িতে ছিলেন না, বর্তমানে তিনি পলাতক।
অপরাধের যোগসূত্র ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে দাবি, অভিযুক্ত জবেদ শেখের বিরুদ্ধে এলাকায় জমি দখল, তোলাবাজি, বোমাবাজি এবং খুনের মতো একাধিক গুরুতর অপরাধমূলক কাজের অভিযোগ রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই সমস্ত বেআইনি কার্তুজ ও অস্ত্র মজুত করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুষ্কৃতীমূলক সাম্রাজ্য চালানো হচ্ছিল। এই ঘটনার পর স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে যে, জবেদের বাড়ির আশেপাশে আরও প্রচুর বেআইনি বন্দুক ও অস্ত্র লুকিয়ে রাখা আছে। ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা এলাকা জুড়ে শান্তি বজায় রাখতে পুলিশকে দ্রুত সমস্ত বেআইনি অস্ত্র খুঁজে বের করার অনুরোধ জানিয়েছে তারা। অন্যদিকে, এই অস্ত্র উদ্ধার ও নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
পুলিশ ঘটনার কারণ ও এই বিপুল পরিমাণ কার্তুজ কোথা থেকে আনা হয়েছিল তা খতিয়ে দেখছে। পলাতক তৃণমূল নেতার খোঁজে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি অন্য কোথাও অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে কিনা, তা জানতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে।