জনতার বিক্ষোভে উত্তাল নারকেলডাঙা, এবার পুলিশের জালে তৃণমূল কাউন্সিলর সচিন সিং

তোলাবাজি, প্রতারণা ও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন কলকাতা পুরসভার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সচিন সিং। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় বেআইনি কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগে মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারকেলডাঙা এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভ ও ঢিল বৃষ্টি
মঙ্গলবার সকাল থেকেই নারকেলডাঙায় কাউন্সিলর সচিন সিংয়ের বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তেজিত জনতা তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেয় এবং একপর্যায়ে বাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ও ঢিল ছোড়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সচিন সিং দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একাধিক পার্কিং লটসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে তোলাবাজি চালাচ্ছিলেন। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার একাধিক অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে পুলিশি তৎপরতা ও রাজনৈতিক প্রভাব
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দুর্নীতি ইস্যুতে কোনো রকম আপস করা হবে না এবং পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকার পরই শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গ্রেপ্তার হচ্ছেন। সচিন সিংয়ের আগে কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লেও বিপুল অঙ্কের টাকা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
পরপর হেভিওয়েট জনপ্রতিনিধিদের এই গ্রেপ্তারির ঘটনা পুরপ্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন তুলছে, তেমনই অপরাধ দমনে পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা বাড়াবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।