রাজনীতির ছদ্মবেশে নাশকতা, ভারতে মাথাচাড়া দিচ্ছে লস্কর ও আইএসআইয়ের ভয়ংকর ষড়যন্ত্র!

রাজনীতির ছদ্মবেশে নাশকতা, ভারতে মাথাচাড়া দিচ্ছে লস্কর ও আইএসআইয়ের ভয়ংকর ষড়যন্ত্র!

ভারতের মূল ধারার রাজনীতিতে ঢুকে সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে যাওয়ার এক ভয়ংকর নীল নকশা তৈরি করেছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা। ভারতীয় নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর চোখে ধুলো দিতে এবং যেকোনো ধরনের আইনি তল্লাশি বা তদন্ত এড়াতে জঙ্গিরা এখন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছে। সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন বেশ কিছু ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছেন গোয়েন্দারা।

তদন্ত এড়াতে রাজনীতির কবচ

গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে নব্বইয়ের দশকে কাশ্মীরের জঙ্গিরা যেভাবে পরিচয় লুকাতে ভুয়ো ভোটার কার্ড ব্যবহার করত, বর্তমান সময়ে এসে সেই কৌশলে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন তারা জাল ভোটার ও আধার কার্ড তৈরি করে প্রথমে নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় ঘাঁটি তৈরি করছে। এরপর স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগাতে বিভিন্ন দলের সদস্যপদ হাতিয়ে নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশি এড়াতে এই রাজনৈতিক মেম্বারশিপ কার্ডগুলোকে তারা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এক নতুন ও গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তৃণমূল স্তরে অনুপ্রবেশের নেপথ্য কারণ

রাজনীতির আঙিনাকে কাজে লাগিয়ে জঙ্গিদের এই আত্মগোপন করার প্রবণতা কেবল তাত্ত্বিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। ২০২০ সালে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া লস্কর জঙ্গি তালিব হুসেনের দৃষ্টান্ত এখানে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ধৃত ওই জঙ্গি জম্মুতে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সোশ্যাল মিডিয়া ইন-চার্জ হিসেবে কাজ করছিল। অত্যন্ত সুচতুরভাবে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে সে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে নিয়েছিল, অথচ তার কাছ থেকে পরবর্তীতে বিপুল পরিমাণ স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। একইভাবে পাঞ্জাবেও লস্করের এমন একটি মডিউলের সন্ধান মিলেছে, যেখানে জঙ্গিরা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ছদ্মবেশে সাধারণ নাগরিক হিসেবে বসবাস করছিল।

এই নতুন কৌশলের দূরগামী প্রভাব অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ার ফলে জঙ্গিরা কেবল সমাজেই আড়ালে থাকছে না, বরং দলের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংস্পর্শ পাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন জঙ্গি দমনে পুলিশের কাজ আরও জটিল হয়ে উঠছে, অন্যদিকে দেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর পবিত্রতাও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *