ভাঙছে দল, ‘বিরোধী’ তকমা বাঁচাতে বিধানসভায় মরিয়া তৃণমূল!

ভাঙছে দল, ‘বিরোধী’ তকমা বাঁচাতে বিধানসভায় মরিয়া তৃণমূল!

বিধানসভায় তৃণমূলের ‘প্রধান বিরোধী’ তকমা ও দলের অস্তিত্ব ধরে রাখা নিয়ে চরম রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। দলে ভাঙন রুখতে এবং নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে মঙ্গলবার বিধানসভায় স্পিকারের উদ্দেশে একটি নয়া চিঠি নিয়ে হাজির হন তৃণমূলের দুই বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং অসীমা পাত্র। কিন্তু স্পিকার রথীন বোসের অনুপস্থিতিতে তাঁর সচিব সেই চিঠি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

চিঠি জমা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ বিধায়করা শেষ পর্যন্ত সেটি সচিবের চেয়ারে পেপার ওয়েট দিয়ে চাপা দিয়ে রেখে আসেন এবং পুরো ঘটনার ভিডিওগ্রাফি করেন। এর আগে সোমবারও তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়েছিল, যা সচিব গ্রহণ করেছিলেন। তবে মঙ্গলবারের ঘটনার পর কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, স্পিকারের সচিবালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে বিরোধী দলের কাছ থেকে আর কোনও চিঠি নেওয়া যাবে না।

চিঠির নেপথ্যে সুপ্রিম কোর্টের রায়

তৃণমূল সূত্রের খবর, সোমবার জমা দেওয়া চিঠিতে সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের উল্লেখ করা হয়েছে। ওই রায় অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতা কে হবেন তা নির্ধারণ করার একচ্ছত্র অধিকার বৃহত্তম বিরোধী দলের, সাধারণ বিধায়কদের নয়। এই যুক্তিতে তৃণমূল দাবি করেছে যে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া চিঠিটি সম্পূর্ণ বৈধ। অতীতেও এই বিধানসভায় দলীয় প্রস্তাব মেনেই বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করা হয়েছে, যার অন্যতম উদাহরণ ২০২১ সালে বিজেপির প্রস্তাবে শুভেন্দু অধিকারীর নিয়োগ। মঙ্গলবার মূলত এই চিঠিরই একটি বর্ধিত অংশ জমা দিতে গিয়েছিলেন কুণাল ও অসীমা।

কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

এই নজিরবিহীন সংঘাতের মূল কারণ হলো তৃণমূলের অন্দরে সম্ভাব্য ভাঙন এবং বিধানসভায় নিজেদের প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা হারানোর আশঙ্কা। দল যদি ভেঙে যায়, তবে আইনি ও সাংবিধানিক লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতেই সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপর ভরসা করছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

এদিকে চিঠি গ্রহণ না করার বিষয়ে স্পিকারের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় জানিয়েছেন, বিধায়কদের সই জাল করার একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বর্তমানে সিআইডি তদন্ত চলছে এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা আসছেন। সেই কারণেই হয়তো নতুন কোনো চিঠি জমা না নেওয়ার নির্দেশিকা থাকতে পারে। এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *