তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্ফোরক অর্জুন, ৩২১টি খুনের কাঠগড়ায় অভিষেক!

পশ্চিমবঙ্গের সদ্যগঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভায় শপথ নেওয়ার পরদিনই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করলেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে একগুচ্ছ বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।
শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, মঙ্গলবার জগদ্দলের মজদুর ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অর্জুন সিং। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৩২১টি খুনের আসামি এবং আইনের শাসনে তিনি কোনোভাবেই ছাড় পাবেন না। একই সঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বিজেপি কখনো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলে নেবে না। তৃণমূল জমানায় বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হওয়া একাধিক হিংসা ও অত্যাচারের প্রসঙ্গ টেনে এই গুরুতর অভিযোগ আনেন তিনি।
অস্তিত্ব সংকটে তৃণমূল কংগ্রেস
তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন অর্জুন সিং। তাঁর দাবি, তৃণমূল রাজনৈতিক দল হিসেবে আর বেশিদিন টিকবে না, দ্রুতই এই দল বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তিনি যুক্তি দেন, যে দল পুরোপুরি সরকারি দলে পরিণত হয়, তারা প্রকৃত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে পারে না। তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও দলবদলের আবহকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “বিজেপি যদি সত্যিই দরজা খুলে দেয়, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া তৃণমূলে আর কেউ থাকবে না।”
রাজনৈতিক প্রভাব ও সরকারের লক্ষ্য
অর্জুন সিংয়ের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে আরও তীব্র করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি খুনের মামলার অভিযোগ তোলায় আইনি ও রাজনৈতিক স্তরে বড়সড় পাল্টা প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সরকারের নতুন দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে অর্জুন নিজে কোনো সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত দেননি। তিনি জানিয়েছেন, একজন রাজনৈতিক কর্মীর কাছে সব দায়িত্বই সমান এবং এই মুহূর্তে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা।