বাম আমলে চিরকুটে চাকরির অভিযোগ ওড়ালেন মীনাক্ষী, জানালেন নিজের অতীতের সংগ্রাম

বাম আমলে চিরকুটে চাকরির অভিযোগ ওড়ালেন মীনাক্ষী, জানালেন নিজের অতীতের সংগ্রাম

বাম আমলে ‘চিরকুটে চাকরি’ হওয়ার পুরনো অভিযোগকে নতুন করে উস্কে দিয়ে সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ। উত্তরপাড়ার বিধায়কের অভিযোগ, কলা বিভাগের ছাত্রী হয়েও মীনাক্ষী কীভাবে বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরি অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে চাকরি পেয়েছিলেন। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিজের রাজনৈতিক সততা ও অতীতের লড়াইয়ের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক।

বিজেপি বিধায়কের অভিযোগের জবাবে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, ২০০৮ সালে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কুলটি কলেজে ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে চাকরি পেয়েছিলেন তিনি। নিয়ম মেনে খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেখেই আবেদন করেছিলেন এবং সেই অনুযায়ী তাঁর নিয়োগ হয়েছিল। বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরিতে চাকরির অভিযোগ উড়িয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, তিনি আসলে ভূগোলের ল্যাবরেটরিতে কাজ করতেন, যা মূলত কলা বা আর্টস বিভাগেরই একটি অংশ। পারিবারিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময় তাঁর বাবা অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন। বাড়ির বড় মেয়ে হিসেবে সংসারের হাল ধরতে মাত্র দেড় হাজার টাকা বেতনের সেই চাকরি করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে বামপন্থীদের দলীয় নীতি মেনে সাড়ে ৮ হাজার টাকা বেতনের সেই চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি ‘হোলটাইমার’ বা পূর্ণসময়ের রাজনীতিতে যুক্ত হন।

অভিযোগের রাজনৈতিক প্রভাব

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, মীনাক্ষী বর্তমানে দল থেকে পাওয়া মাত্র ৫০০০ টাকা ভাতায় জীবনযাপন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে এই অল্প ভাতায় ফুলটাইম রাজনীতি করা নেত্রীর সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, রাজ্য রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির তরুণ বাম নেত্রী হিসেবে মীনাক্ষীর যে পরিচিতি রয়েছে, তা কালিমালিপ্ত করতেই বিরোধী শিবির থেকে এই ল্যাবরেটরি অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের পুরনো চাকরিকে হাতিয়ার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মীনাক্ষীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা শুরু হয়েছে। আসানসোলের বিবি কলেজ থেকে ২০০৫ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হওয়ার পর বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। এর পাশাপাশি ২০১০ সালে তিনি বিএড কোর্সও সম্পন্ন করেন। ফলে উচ্চশিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ একটি পদে তাঁর চাকরি পাওয়ার বিষয়টিকে বিরোধীরা রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করলেও, মীনাক্ষী একে সাধারণ কর্মজীবী মানুষের লড়াইয়ের প্রতি পুঁজিপতি ও শাসক শ্রেণির তাচ্ছিল্য হিসেবেই দেখছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *