বিধানসভায় তাপসের সামনে কুণাল! তৃণমূলকে বাঁচাতে ঠিক কী প্রস্তাব দিলেন তিনি?

বিধানসভায় তাপসের সামনে কুণাল! তৃণমূলকে বাঁচাতে ঠিক কী প্রস্তাব দিলেন তিনি?

পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির সাম্প্রতিক টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই বিধানসভার অলিন্দে মুখোমুখি হলেন বিজেপি নেতা তাপস রায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের কুণাল ঘোষ। দলের চরম সংকটকাল এবং ভাঙনের আবহে দুই নেতার এই আকস্মিক সাক্ষাৎ এবং কথোপকথন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে। একদিকে যখন দল বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে তখন বিধানসভার করিডোরে ধরা পড়ল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ছবি।

সৌজন্যের আবহে রাজনীতির ছোঁয়া

বিধানসভায় একটি চিঠি জমা দিতে এসেছিলেন তাপস রায়। সেখানেই আচমকা তাঁর মুখোমুখি হন তৃণমূলের কুণাল ঘোষ। রাজনৈতিক তিক্ততা ভুলে দুজনে ক্ষণিকের জন্য থমকে দাঁড়ান এবং কথা বলেন। এই কথোপকথনের মাঝেই কুণাল ঘোষ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে, তাঁদের ওয়াই (Y) চ্যানেলে সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি। জবাবে তাপস রায় অতীতে তাঁদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, তাঁদেরও ১০৪ বার সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং বাধ্য হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল।

বিতর্ক এড়াতে কুণাল ঘোষ অবশ্য বিষয়টিকে ব্যক্তিগত সৌজন্য হিসেবেই তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, সব সম্পর্ককে রাজনীতি দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়। তাপস রায় তাঁর কলেজের সিনিয়র এবং তাঁর বাড়িতে গিয়ে লুচি খাওয়ার আবদারও জানান কুণাল। পাশাপাশি, অতীতে তাপস রায়ের প্রশংসা করার জন্য তাঁকে যে দলের কোপ মুখে পড়তে হয়েছিল, সেই স্মৃতিরোমন্থনও করেন তিনি।

ভাঙনের মুখে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই

এই সৌজন্য সাক্ষাতের নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের এক গভীর রাজনৈতিক সংকট। দলটির অন্দরে বর্তমানে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রতর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন প্রায় ৫০ জন বিধায়ক, যা শাসক শিবিরের ভিত নড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াই চ্যানেলে ধরনায় বসেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের এই চরম মুষলপর্বে ধরনা মঞ্চেও একপ্রকার ছন্নছাড়া ভাব স্পষ্ট।

এই পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী শিবির। বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে তাপস রায় স্পষ্ট জানান, তৃণমূল যেভাবে চলছিল, তাতে এই পরিণতি প্রত্যাশিতই ছিল এবং তাসের ঘরের মতো দলটির ভেঙে পড়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। বিরোধীদের দাবি, এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের জেরে শাসক দলটির অস্তিত্ব এখন সংকটের মুখে। বিধানসভার এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ মূলত সৌজন্যের মোড়কে ঢাকা থাকলেও, তা শাসক দলের বর্তমান রাজনৈতিক অসহায়তা এবং অস্বস্তিকেই দর্পণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *