সই জালিয়াতির তোলপাড়ের মাঝেই স্পিকারকে অভিষেকের দ্বিতীয় চিঠি, তৃণমূলের অন্দরে তীব্র হচ্ছে বিদ্রোহ!
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/03/abhishek-banerjee-2026-05-03-07-59-11.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সই জালিয়াতি এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের জল এবার অনেক দূর গড়িয়েছে। সই কাণ্ডে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID) আদালতের দ্বারস্থ হতেই বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে ফের চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার পাঠানো এই দ্বিতীয় চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার পাশাপাশি নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপ বিরোধী দলনেতা করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। এর আগে প্রথম চিঠি পাওয়ার পরই স্পিকার স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, এভাবে সরাসরি চিঠি দিয়ে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করা যায় না। তার জন্য পরিষদীয় দলের বৈঠক ডেকে বিধায়কদের সইসহ সভার কার্যবিবরণী জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
৫০ বিধায়কের বিদ্রোহ ও সমান্তরাল অক্ষ
দলীয় সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৃণমূলের অন্দরেই একটি সমান্তরাল অক্ষরেখা তৈরি হয়েছে। দলের প্রায় ৫০ জন বিধায়ক বর্তমানে অভিষেকের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ জারি করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। এই সই কাণ্ড নিয়ে মুখ খোলায় ইতিমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। এই পরিস্থিতি দলের অন্দরে তৈরি হওয়া ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে এবং শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
হাতের লেখার নমুনা চাইছে সিআইডি
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে যখন সই জালিয়াতির তদন্তে সিআইডি তিন তৃণমূল বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা নিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। তদন্তকারীরা বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, সুব্রত রায় ও অরূপ রায়ের হাতের লেখার নমুনা পরীক্ষা করতে চান। আদালতের নির্দেশ মিললে এই তিন বিধায়ককে বিচারকের সামনে উপস্থিত হয়ে সই ও লেখার নমুনা দিতে হবে। সিআইডির নিজস্ব হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্ট বা হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞরা যাচাই করে দেখবেন যে নথির সইগুলো আসল নাকি জালিয়াতি করা হয়েছিল।
তদন্তের এই মোড় এবং দলের ভেতরের বিধায়কদের একাংশের ক্ষোভ শাসক শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে এক বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সিআইডি-র তদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এখন আগামী দিনের পরিষদীয় রাজনীতি ও দলের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ধারিত হবে।