মমতার ধর্নামঞ্চে জনশূন্যতা, পাশে নেই দলেরই সিংহভাগ সাংসদ-বিধায়ক!

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এক মাসও কাটেনি, এর মধ্যেই ফের চেনা মেজাজে ধর্নামঞ্চে হাজির তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার আন্দোলনের ঝাঁঝের চেয়েও বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে মঞ্চের শূন্যতা নিয়ে। অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যেকোনো প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দলের নেতা-কর্মীদের যে উপচে পড়া ভিড় দেখা যেত, ক্ষমতার অলিন্দ থেকে দূরে সরতেই সেই চেনা ছবিতে বড়সড় ভাঙন ধরেছে। খোদ দলনেত্রীর পাশে এখন দেখা মিলছে না দলেরই অধিকাংশ সাংসদ ও বিধায়কের।
মঙ্গলবার দুপুর ২টোয় কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাংসদ দোলা সেন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রী মঞ্চে পৌঁছনোর পর সেখানে কিছু কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমলেও, অতীতের সেই চেনা উদ্দীপনা ও ভিড়ের খতিয়ান আজ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
নেতৃত্বের বড় অংশের দূরত্ব বজায়
তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে বর্তমানে ৭৮ জন বিধায়ক (সম্প্রতি দুজনকে বহিষ্কারের পর) এবং লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে ৪১ জন সাংসদ রয়েছেন। অথচ এই বিপুল সংখ্যার বিপরীতে এদিনের ধর্নামঞ্চে মেরেকেটে মাত্র ৫ জন সাংসদ এবং হাতে গোনা কয়েকজন বিধায়ককে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
মঞ্চে উপস্থিত প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে ছিলেন বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, অশোক দেব ও শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়। সাংসদদের মধ্যে ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম, মালা রায়, দোলা সেন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া আর কাউকেই সেভাবে দেখা যায়নি। পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে কেবল চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও তন্ময় ঘোষ এবং পুরসভার প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈশ্বনর চট্টোপাধ্যায় হাজির ছিলেন। বাকি বিশাল অংশের এই অনুপস্থিতি দলের অন্দরের বর্তমান সমীকরণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুতি ও সাংগঠনিক সমন্বয়ের অভাব
ভোটের মাত্র কয়েক মাস আগেও যখন তৃণমূল এসআইআর-এর বিরোধিতায় প্রতিবাদ মঞ্চ তৈরি করেছিল, তখন দলের প্রায় সমস্ত স্তরের নেতা-নেত্রীদের সেখানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা হারানোর মাত্র এক মাসের মধ্যে এই ধরনের গণ-অনুপস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, শাসকদল থেকে বিরোধী দলে পরিণত হতেই দলের অন্দরে সাংগঠনিক সমন্বয়ের তীব্র অভাব তৈরি হয়েছে। ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার কারণে অনেক জনপ্রতিনিধিই হয়তো এই মুহূর্তে নতুন শাসক শিবিরের রোষানল থেকে বাঁচতে কিংবা নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে দলনেত্রীর কর্মসূচি থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন। এই পরিস্থিতি আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন বা নিষ্ক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।