৩৪ বছর পর খুনের চেষ্টার রায়, দোষী সাব্যস্ত ৮৪ বছরের পঙ্গু বৃদ্ধ

৩৪ বছর পর খুনের চেষ্টার রায়, দোষী সাব্যস্ত ৮৪ বছরের পঙ্গু বৃদ্ধ

বিহারের বৈশালী জেলায় দীর্ঘ ৩৪ বছর পর অবশেষে ১৯৯২ সালের একটি রক্তক্ষয়ী হামলার মামলার রায় ঘোষণা করেছে আদালত। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে মামলার পাঁচজন আসামির মধ্যে চারজন ইতিমধ্যেই মারা গেছেন। বর্তমানে জীবিত থাকা একমাত্র ৮৪ বছর বয়সী বৃদ্ধ দীপ রাইকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করেছে। লাঠিতে ভর দিয়ে এবং অন্যের সাহায্য নিয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় ওই অশীতিপর বৃদ্ধের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

তিন দশক আগের সেই রক্তক্ষয়ী সংঘাত

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯২ সালের ১০ মে। বিহারের জুধাবনপুর গ্রামের বাসিন্দা আদালত রাই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন যে, পুরোনো শত্রুতার জেরে একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। তারা আদালত রাই ও তাঁর স্ত্রীর ওপর এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ করে প্রাণঘাতী আক্রমণ চালিয়েছিল। পুলিশ তদন্ত শেষে ১৯৯৩ সালে আদালতে চার্জশিট জমা দিলেও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হতে তিনটি দশক পার হয়ে যায়।

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার প্রভাব

বৈশালীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক মনোজ কুমার তিওয়ারি সমস্ত তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে একমাত্র জীবিত আসামি দীপ রাইকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কারণে বাকি চার অভিযুক্তের বিচার পাওয়ার আগেই মৃত্যু হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলেও বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে জরাজীর্ণ এই বৃদ্ধের শাস্তির মেয়াদ আগামী বুধবার ঘোষণা করবে আদালত। এই ঘটনা দেশের বিচার ব্যবস্থার ধীরগতি এবং সঠিক সময়ে বিচার পাওয়ার প্রাসঙ্গিকতাকে পুনরায় বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *