১০ মাস শৌচাগারে বন্দি রেখে নৃশংস নির্যাতন, দেরাদুনে গৃহবধূর ওপর শ্বশুরবাড়ির অমানবিক বর্বরতা!

১০ মাস শৌচাগারে বন্দি রেখে নৃশংস নির্যাতন, দেরাদুনে গৃহবধূর ওপর শ্বশুরবাড়ির অমানবিক বর্বরতা!

বিয়ের পর সুখের সংসারের স্বপ্ন নিমেষেই বদলে গেল এক চরম নরকযন্ত্রণায়। উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে এক গৃহবধূকে প্রায় ১০ মাস ধরে ঘর ও শৌচাগারে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা এই বর্বরতার শিকার ওই তরুণীকে দিনের পর দিন কেবল কাঁচা চাল, পেঁয়াজ ও কাঁচালঙ্কা খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই চরম নৃশংসতার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সেলাকুই থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

লোমহর্ষক নির্যাতন ও পৈশাচিক বর্বরতা

নির্যাতিতার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে রাহুল খাণ্ডুরি নামের এক যুবকের সঙ্গে ওই তরুণীর বিয়ে হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি যমজ সন্তানের জন্ম দেন, তবে তার আগে থেকেই তাঁর ওপর নির্যাতন শুরু হয়েছিল। গত বছরের জুলাই মাস থেকে তাঁকে কার্যত একটি ঘরের কোণে ও শৌচাগারে বন্দি করে রাখা হয়। স্বামী কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকলেও বাড়ি ফিরলেই স্ত্রীর ওপর শারীরিক অত্যাচার চালাতেন। এই নির্যাতনে সমানভাবে শামিল ছিলেন শ্বশুর ও শাশুড়িও।

অভিযোগ, লোহার রড, নর্দমার পাইপ, চেয়ার, লাঠি এবং মেঝে পরিষ্কারের সরঞ্জাম দিয়ে ওই তরুণীকে নিয়মিত মারধর করা হতো। এমনকি তাঁর গোপনাঙ্গেও গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। নির্যাতনের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, জোর করে টেনে তাঁর মাথার চুল উপড়ে ফেলা হয়, যার ফলে মাথার একটি বড় অংশ চুলহীন হয়ে গেছে। দীর্ঘ ১০ মাস বাইরের জগৎ এবং নিজের পরিবারের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তরুণীর মানসিক স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি হয়েছে। মেয়ে ঘুমাচ্ছেন বা স্নান করছেন— এমন অজুহাত দেখিয়ে এতদিন তরুণীর বাপের বাড়ির লোকদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, পারিবারিক বিরোধ এবং পণের দাবির জেরে এই ধরনের নৃশংস অত্যাচার চালানো হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই ঘটনাটি দেশের পারিবারিক সহিংসতা ও নারী সুরক্ষার কঙ্কালসার রূপটিকে আবারও জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। এর ফলে সমাজে নারীদের নিরাপত্তা এবং বৈবাহিক সম্পর্কের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অপরাধ প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে, প্রতিবেশীদের সচেতনতা এবং দ্রুত আইনি হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা কতটা জরুরি, তা এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে। বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *