স্পিকারের সচিবালয়ে চিঠি জমা নিল না বিধানসভা, টেবিলে চিঠি রেখে ভিডিও কুণালের!

বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর একদিকে যখন ধর্মতলায় রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক তখনই বিধানসভার অন্দরে স্পিকার বনাম তৃণমূল সংঘাত চরম আকার ধারণ করল। বিধানসভায় স্পিকারের উদ্দেশ্যে দেওয়া তৃণমূলের একটি চিঠি জমা নিতে সাফ অস্বীকার করেছে স্পিকারের সচিবালয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধানসভা চত্বরে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। শেষ পর্যন্ত স্পিকারের সচিবের টেবিলেই চিঠিটি রেখে তার একটি ভিডিও রেকর্ড করে নেন তৃণমূল নেতৃত্ব। পরবর্তীতে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদের দাবি জানিয়ে সরাসরি স্পিকার রথীন বোসকে ইমেল মারফত সেই চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠি প্রত্যাখ্যান ও কুণালের বিস্ফোরক দাবি
তৃণমূলের দাবি, সংসদীয় ও পরিষদীয় আইন মেনে পরিষদীয় দলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের সুপারিশ সম্বলিত সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি স্পিকারের উদ্দেশ্যে জমা দিতে গিয়েছিলেন তাঁদের প্রতিনিধি দল। কিন্তু সচিব জানান, স্পিকারের নির্দেশ রয়েছে যে অনুমতি ছাড়া বিরোধীদের কোনও চিঠি আর রিসিভ করা যাবে না। এর জবাবে কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, সরকার ভেতরে এমন কোনও কাজ করতে চাইছে যার বিরোধিতার লিখিত প্রমাণ বা রেকর্ড তারা রাখতে দিচ্ছে না। একই সঙ্গে ওই সচিবের সমস্ত অধিকার খর্ব করে তড়িঘড়ি তাঁকে অন্য দফতরে বদলি করে দেওয়া হয়েছে বলেও চাঞ্চল্যকর দাবি করেন তিনি।
আইনি জটিলতা ও বিরোধী দলনেতা পদের লড়াই
তৃণমূলের পাঠানো এই চিঠিতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে অভিজ্ঞ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ডেপুটি লিডার হিসেবে অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চিফ হুইপ পদে ফিরহাদ হাকিমের নাম সুপারিশ করা হয়েছে। অতীতে ২০০১ সালে পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা ২০২১ সালে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নের নজির টেনে ঘাসফুল শিবিরের দাবি, কে বিরোধী দলের নেতা হবেন সেখানে পার্টির চিঠিই শেষ কথা, বিধায়কদের স্বাক্ষরের প্রয়োজন নেই। মূলত ভবিষ্যৎ আইনি লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত রাখতেই তৃণমূল এই চিঠি আগেভাগে দিয়ে রাখল। অন্যদিকে, চিঠি জমা না নেওয়া প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা তাপস রায় জানান, এই চিঠি সংক্রান্ত রেজোলিউশন নিয়ে মামলা চলছে এবং সিআইডি তদন্ত হয়েছে, সম্ভবত সেই কারণেই সচিবালয় চিঠি নিতে অস্বীকার করেছে। এই ঘটনার জেরে বাংলার সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী আসনের দখল কার হাতে যাবে, তা নিয়ে এক নতুন আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হলো।