প্রথম দিনেই উপচে পড়া আবেদন, দুই মিনিটে ১৫ লক্ষ বার সাইবার হামলার মুখে সিবিএসই পোর্টাল

কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের (সিবিএসই) রিভ্যালুয়েশন বা পুনর্মূল্যায়ন পোর্টাল চালু হতেই দেশজুড়ে পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। পোর্টাল খোলার প্রথম দিনেই মঙ্গলবার বিকেল ৩টে পর্যন্ত ১৬ হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী পুনর্মূল্যায়ণ ও ফলাফল-সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিষেবার জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন। তবে এই বিপুল আগ্রহের পাশাপাশি প্রথম দিনেই বড়সড় সাইবার হামলার মুখে পড়েছে বোর্ডের এই অনলাইন ব্যবস্থা।
হ্যাকারদের নিশানায় পোর্টাল
বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পোর্টালটি চালু হওয়ার পরপরই সেটিকে লক্ষ্য করে ‘ডিনায়াল অব সার্ভিস’ (DoS) ধরনের একটি বড়সড় সাইবার হামলা চালানো হয়। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে প্রায় ১৫ লক্ষ হিট পাঠিয়ে পোর্টালটি অচল করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সিস্টেমে সংরক্ষিত তথ্য ও নথিতে অননুমোদিত প্রবেশের জন্য এক লক্ষেরও বেশিবার চেষ্টা চালায় হ্যাকাররা। তবে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এই সমস্ত আক্রমণ প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে এবং পোর্টালের কার্যক্রমে কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি। বর্তমানে এই প্ল্যাটফর্মটি একসঙ্গে ৮ হাজারেরও বেশি ব্যবহারকারীকে পরিষেবা দিতে সক্ষম।
অনুমানের চেয়েও বেশি আবেদনের ইঙ্গিত
প্রথম ৯ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ হাজার আবেদন জমা পড়ার এই পরিসংখ্যানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অনুমান করেছিলেন যে, যোগ্য ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করবেন না এবং সেই অনুযায়ী মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ৮০ হাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে প্রথম দিনেই আবেদনের এই ঢল মন্ত্রকের সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়ার আরও তিন দিন বাকি থাকায় চূড়ান্ত সংখ্যাটি অনুমানকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রযুক্তিগত সংস্কার ও নজরদারি
ফল প্রকাশের পর থেকেই সিবিএসই-র অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) ব্যবস্থা এবং পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও পরিষেবা বিলম্বের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার পড়ুয়াদের সুবিধার জন্য পোর্টালে একাধিক পরিবর্তন এনেছে কর্তৃপক্ষ। মাঝপথে সেশন কেটে যাওয়ার সমস্যা দূর করতে সেশন টাইম-আউটের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্য বোর্ডের একটি প্রযুক্তিগত দল সার্বক্ষণিকভাবে পোর্টালের সুরক্ষায় নজরদারি চালাচ্ছে।