সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুমে উইয়ে খাওয়া টাকার পাহাড়, ফেঁসে যাচ্ছেন প্রভাবশালী নেতা?

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে দু’ব্যাগ ভর্তি লক্ষ লক্ষ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘরটির তালা ভাঙতেই উদ্ধার হয় থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল, যার একটি বড় অংশই দীর্ঘদিন বদ্ধ অবস্থায় থাকায় উইপোকায় কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা। এই ঘটনায় অভিযোগের তির কলেজেরই প্রভাবশালী ‘হোতা’ দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। অভিযোগ, তাঁর নেতৃত্বেই দীর্ঘদিন ধরে কলেজের ওই বন্ধ ঘরে একটি বড়সড় চক্র বা র্যাকেট চালানো হতো।
তালা ভাঙতেই রহস্যের উন্মোচন
গত ৪ তারিখ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ওই ইউনিয়ন রুমটিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঘরের চাবিটি কার জিম্মায় ছিল তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয় এবং রহস্যজনকভাবে সেটি গায়েব হয়ে যায়। মঙ্গলবার পুরসভার সাফাই কর্মীরা ওই ঘর পরিষ্কার করতে এলে চাবির খোঁজ না মেলায় কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং কর্মচারীরা মিলে ইউনিয়ন রুমের তালা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। নোংরা ও আবর্জনায় ভরা ওই ঘরটি খুলতেই কোণে দুটি স্যুটকেস পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা খুলতেই বেরিয়ে আসে এই বিপুল পরিমাণ টাকা। অন্দরের খবর, চাবি গায়েব করে দিয়ে এই বিপুল টাকা লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছিল।
চাকরি বিক্রির চক্র ও অবৈধ ভাউচার
ঘটনার কারণ ও এর নেপথ্যের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ঘরটিতে তল্লাশি চালিয়ে এমন কিছু নথি মিলেছে যা থেকে অনুমান করা হচ্ছে, এখান থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি বিক্রির চক্র বা র্যাকেট সক্রিয়ভাবে চালানো হচ্ছিল। এছাড়া ইউনিয়ন রুমটি বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ। ঘরটি থেকে বেশ কিছু ভাউচারও উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই সমস্ত ভাউচার ব্যবহার করেই বিভিন্ন খাত থেকে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ কাটমানি বা অর্থ তোলা হয়েছিল।
টাকা উদ্ধারের খবর ছড়াতেই দ্রুত সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পৌঁছায় মুচিপাড়া থানার পুলিশ। কলেজের দু’জন প্রিন্সিপাল নিজেদের মধ্যে জরুরি আলোচনা সেরে এই বিষয়ে পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ স্যুটকেস বন্দি উইয়ে খাওয়া টাকা ও ভাউচারগুলো বাজেয়াপ্ত করেছে। এই চক্রের জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এর পেছনে আর কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ প্রশাসন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।