পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে তড়িঘড়ি নতুন ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতি! সিবিএসইর শীর্ষ দুই কর্তার ওপরেই কোপ

পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে তড়িঘড়ি নতুন ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতি! সিবিএসইর শীর্ষ দুই কর্তার ওপরেই কোপ

ভারতের কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের (সিবিএসই) শীর্ষ স্তরে এক নজিরবিহীন রদবদল ঘটেছে। দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতি চালুর প্রক্রিয়া এবং টেন্ডার সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে সিবিএসই-র চেয়ারম্যান রাহুল সিং এবং সচিব হিমাংশু গুপ্তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে সম্পূর্ণ নতুন একটি মূল্যায়ন পদ্ধতি তড়িঘড়ি কার্যকর করার চেষ্টার পরেই সরকারের পক্ষ থেকে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

তদন্তে এক সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি

ওএসএম পরিষেবা সংগ্রহের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত আইএএস কর্মকর্তা এস রাধা চৌহানের নেতৃত্বে গঠিত এই এক সদস্যের কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যে কর্মীবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরে (ডিওপিটি) তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং কমিশনের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাধা চৌহান তদন্তের স্বার্থে যেকোনো সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সহায়তা নিতে পারবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় থেকে জারি করা এক বিশেষ স্মারকলিপিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কারণ ও আশঙ্কা

অভিযোগ উঠেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা শুরুর মাত্র ৭৪ দিন আগে, ৫ ডিসেম্বর ‘কোয়েম্প এডু টেক’ নামক একটি সংস্থাকে ওএসএম পদ্ধতির চুক্তি দেওয়া হয়েছিল। প্রায় এক কোটি উত্তরপত্র মূল্যায়নের মতো একটি বিশাল ও সংবেদনশীল কাজের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই সম্পূর্ণ নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিবিএসই-এর এই টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থার সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। ডিজিটাল ত্রুটির কারণে দ্বাদশ শ্রেণীর ফলাফল মূল্যায়নের স্বচ্ছতা নষ্ট হতে পারে, এমন আশঙ্কায় অভিভাবক ও শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ শুরু করলে বিষয়টি সরকারের নজরে আসে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও সিবিএসইর অবস্থান

বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই আকস্মিক বদলি এবং তদন্তের সিদ্ধান্ত দেশের অন্যতম বৃহত্তম শিক্ষা বোর্ডের প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর বড় ধাক্কা। তবে সিবিএসই কর্মকর্তাদের দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়াটি সাধারণ আর্থিক বিধি এবং সুপ্রতিষ্ঠিত সরকারি সংগ্রহ পদ্ধতি মেনেই সম্পন্ন হয়েছে এবং এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। তা সত্ত্বেও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণের ফলে চলতি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং ফলাফল প্রকাশের সময়সীমার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *