নজরকাড়া গতিতে অ্যাকাউন্টে আসবে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা, যুগান্তকারী পদক্ষেপ কেন্দ্রের

এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজ়েশন বা ইপিএফও-এর প্রায় আট কোটি সদস্যের জন্য এক বিরাট সুখবর নিয়ে এল কেন্দ্র। এবার থেকে আর দিনের পর দিন অপেক্ষা নয়, বরং মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফের টাকা সরাসরি চলে আসবে গ্রাহকদের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস তথা ইউপিআই ব্যবস্থার মাধ্যমে এই টাকা স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চালু হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী মনসুখ মান্ডবিয়া জানিয়েছেন যে, এই নতুন ইউপিআই পেমেন্ট গেটওয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ ইতিমধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শীঘ্রই বেসরকারি ক্ষেত্রের বিপুল সংখ্যক কর্মী এই আধুনিক পরিষেবার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
ডিজিটাল রূপান্তর এবং পুরনো জটিলতার অবসান
বর্তমানে চালু থাকা ডিজিটাল ব্যবস্থায় অনলাইনে পিএফের টাকা তোলার আবেদন করা গেলেও সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বেশ সময়সাপেক্ষ। আবেদন করার পর গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছাতে সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এর পাশাপাশি এক লক্ষ টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল ভেরিফিকেশন বা কাগজের নথি যাচাইয়ের প্রয়োজন পড়ে। এই প্রক্রিয়ায় সামান্য ভুলত্রুটি বা নথির অমিল থাকলে টাকা পেতে দীর্ঘ বিলম্ব হয়, এমনকি অনেক সময় আবেদন সরাসরি বাতিলও হয়ে যায়। নতুন ‘ইপিএফও ৩.০’ ব্যবস্থা চালু হলে এই সমস্ত সনাতনী জটিলতা পুরোপুরি দূর হবে। গ্রাহকেরা তাঁদের নির্দিষ্ট ইউপিআই পিন ব্যবহার করে নিমেষের মধ্যে লিঙ্ক করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা নিয়ে আসতে পারবেন।
অর্থনৈতিক প্রভাব এবং উত্তোলনের নিয়মাবলী
এই নতুন ব্যবস্থার ফলে আনুমানিক ২৬ লক্ষ কোটি টাকার তহবিল পরিচালনাকারী ইপিএফও-র কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। গ্রাহকদের জরুরি প্রয়োজনে বা চিকিৎসার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত অর্থ হাতে পাওয়া সম্ভব হবে, যা সাধারণ মানুষের আর্থিক সুরক্ষাকে আরও মজবুত করবে। তবে তাৎক্ষণিক টাকা তোলার ক্ষেত্রে আগের কিছু নিয়ম অপরিবর্তিত থাকছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কর্মরত অবস্থায় একজন গ্রাহক তাঁর পিএফ তহবিলে জমাকৃত মোট অর্থের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত তুলতে পারবেন। অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ডেই সঞ্চিত থাকবে। অবশ্য কোনো গ্রাহক চাকরি হারালে বা ছাঁটাইয়ের শিকার হলে, ১২ মাস পর তিনি বাকি ২৫ শতাংশ টাকাও তুলে নেওয়ার অধিকার পাবেন। ভারতের প্রায় ৩০ কোটি নথিভুক্ত গ্রাহকের জন্য এই প্রযুক্তিগত আপগ্রেডেশন আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে চলেছে।