বঙ্গের রাজনীতিতে চরম নাটকীয়তা, বুধেই কি আত্মপ্রকাশ করছে ‘নতুন তৃণমূল’!

বঙ্গের রাজনীতিতে চরম নাটকীয়তা, বুধেই কি আত্মপ্রকাশ করছে ‘নতুন তৃণমূল’!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র চাঞ্চল্য। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সদ্য বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই কি গঠিত হতে চলেছে ‘নতুন তৃণমূল’? বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরে যে ফাটল দেখা দিয়েছিল, তা এবার প্রকাশ্য রূপ নিতে চলেছে বলে জল্পনা তুঙ্গে। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, বুধবারই বিধানসভায় পর্যাপ্ত বিধায়কের সমর্থন নিয়ে শক্তি প্রদর্শন করতে পারেন ঋতব্রত এবং নতুন দলের স্বীকৃতি চেয়ে চিঠি জমা দিতে পারেন।

বঙ্গ রাজনীতিতে দলবদলের এই খেলা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যক বিধায়ক তাঁর পাশে দাঁড়ান, তবে তা বর্তমান শাসক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অসন্তোষ এবং নির্বাচনী ফলাফলের পর তৈরি হওয়া ক্ষোভই এই সম্ভাব্য ভাঙনের মূল কারণ।

দলীয় প্রতীক ও বিরোধী দলের তকমা পাওয়ার লড়াই

রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে, ৫৩ থেকে LIV জন বিধায়কের সমর্থন থাকলে এই নতুন গোষ্ঠী বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দলের তকমা পাওয়ার দাবি জানাতে পারে। এমনকি মূল তৃণমূলের ‘মালিকানা’ এবং দলীয় জোড়া ফুল প্রতীকও ঋতব্রতর শিবিরের কাছে চলে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও দল ভাঙার আইনি জটিলতা এবং পরিষদীয় নিয়ম অনুযায়ী এই দাবি কতটা ধোপে টিকবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আইনজ্ঞদের মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে।

বুধবারের নবান্ন বৈঠকের পর চূড়ান্ত নাটক

আজ, মঙ্গলবার বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা গেলেও তিনি দল গঠনের বা চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কিছু খোলসা করেননি। ব্যক্তিগত কাজে এসেছিলেন বলে দাবি করলেও জল্পনা জিইয়ে রেখে জানিয়েছেন, তিনি আজ-এ বিশ্বাসী, কাল কী হবে তা এখনই বলতে পারবেন না। তবে জানা গেছে, বুধবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকের পর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়কদের সাথে নিয়ে ঋতব্রত বিধানসভায় উপস্থিত হতে পারেন এবং তার পরেই এই ‘মিশন ঋতব্রত’ চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এই রাজনৈতিক নাটকের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে রাজ্যের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *