ঋতব্রতর মুখে ‘ঝালমুড়ি’! এমএলএ হস্টেলে বসেই কি তৃণমূল ভাঙানোর ছক, প্রশাসনিক বৈঠকের আগে জল্পনা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার নবান্নে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা হাই-প্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠককে কেন্দ্র করে যখন রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে জল্পনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল ভাঙানো এবং বিধায়কদের নতুন শিবিরে আনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ‘ঝালমুড়ি’ ও ‘মুড়ি’ খাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন তিনি।
‘এমএলএ হস্টেলে মুড়ি খেয়েছিলাম, জাভেদ-শিউলিও ছিলেন’
বুধবার নবান্নের বৈঠকের আগে তৃণমূল ভাঙানোর কৌশল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে জানান, “আমরা এমএলএ (MLA) হস্টেলে বসে মুড়ি খেয়েছিলাম। সেখানে জাভেদ খান ছিলেন, শিউলিদিও (সাহা) ছিলেন।” বকরি ইদের নমাজ বিতর্ক নিয়ে প্রবীণ তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ খান ইতিমধ্যেই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেছেন। এবার ঋতব্রতর মুখে এই ‘মুড়ি খাওয়া’র গল্প ও প্রবীণ নেতাদের উপস্থিতির খতিয়ান জোড়াফুল শিবিরের অন্দরে নতুন করে কম্পন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঝাড়গ্রামের বিক্রমের দোকানের ১০ টাকার ‘ঝালমুড়ি’র পর, এবার এমএলএ হস্টেলের ‘মুড়ি’ বাংলার রাজনীতিতে নতুন এক দলবদল ও ভাঙনের সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে।
নবান্নের বৈঠকে হাওড়া গ্রামীণের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক!
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছেন, সেখানে হাওড়া গ্রামীণ এলাকার সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর এই প্রথম এত বড় স্তরে বিরোধী শিবিরের বিধায়কদের নবান্নের বৈঠকে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
পাশাপাশি, নিজের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিবিধি খোলসা করে ঋতব্রত জানান, অত্যন্ত গোপনে সম্প্রতি তিনি মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন ঘোষের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। একের পর এক বিক্ষুব্ধ ও প্রবীণ তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে ঋতব্রতর এই ‘যোগাযোগ’ এবং মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগাম ঘোষণা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, নবান্নের এই প্রশাসনিক বৈঠক স্রেফ সরকারি কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এর নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত।