অভিষেকের চিঠি! সই জাল কাণ্ডে আদালতে সিআইডি

অভিষেকের চিঠি! সই জাল কাণ্ডে আদালতে সিআইডি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার অন্দরে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং সই জাল করার মামলার গতিপ্রকৃতি নিয়ে চাপানউতোর তুঙ্গে উঠল। একদিকে, জখম অবস্থায় বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও বিধানসভার স্পিকারকে পর পর দুটি চিঠি পাঠিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা জারি রাখলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, তৃণমূলের সই জাল সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলার তদন্তে গতি বাড়িয়ে সরাসরি আদালতে হাজির হলেন সিআইডির (CID) গোয়েন্দারা।

শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা করার আর্জি অভিষেকের

সোমবারের পর মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভার স্পিকারের কাছে দ্বিতীয়বার চিঠি পাঠান তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নতুন চিঠিতে তিনি বিধানসভার বিরোধী দলনেতা (LOP) এবং উপ-বিরোধী দলনেতা পদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু নাম প্রস্তাব করেছেন। অভিষেকের দাবি, প্রবীণ তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হোক। এর পাশাপাশি নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অসীমা পাত্রকে উপ-বিরোধী দলনেতা করার জন্য স্পিকারের কাছে জোরালো আর্জি জানিয়েছেন তিনি। নতুন জমানায় বিধানসভার ভেতরে শাসকদলকে মোকাবিলা করতে তৃণমূল যে অভিজ্ঞ ও চেনা মুখদেরই সামনে রাখতে চাইছে, অভিষেকের এই চিঠি তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

হাতের লেখার নমুনা নিতে ব্যাঙ্কশাল আদালতে গোয়েন্দারা

এদিকে, তৃণমূলের অন্দরে সই জাল করার যে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছিল, তার আইনি প্রক্রিয়া এবার আরও জোরালো হলো। এই সই জাল কাণ্ডের জল এবার সরাসরি গড়াচ্ছে আদালতের চৌকাঠে। মামলার তদন্তের স্বার্থে তৃণমূল বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, শুভাশিস দাস এবং অরূপ রায়ের হাতের লেখার নমুনা (Handwriting Samples) সংগ্রহ করতে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে পৌঁছান সিআইডি আধিকারিকেরা। বিশেষজ্ঞদের দিয়ে এই তিন নেতার হাতের লেখা ও সই পরীক্ষা করিয়ে জালিয়াতির মূল উৎস এবং নেপথ্যের সত্যতা যাচাই করতে চাইছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোনারপুরের ঘটনার পর অভিষেকের এই পর পর চিঠি পাঠানো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলেও দলের রাশ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত তিনিই নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিধানসভায় প্রবীণ ও বিশ্বস্ত নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার এই চেষ্টা দলের অন্দরের ফাটল রোধ করার একটি বড় কারণ হতে পারে। তবে অন্যদিকে, সিআইডি যেভাবে দলীয় বিধায়কদের হাতের লেখার নমুনা নিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে, তাতে আগামী দিনে এই সই জাল মামলার জেরে তৃণমূলের বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট বিধায়ক আইনি ফাঁসে জড়িয়ে পড়তে পারেন। বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই এই দ্বিমুখী টানাপোড়েন রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *